সাঁতারে এত উপকার!

নিয়মিত সাঁতার কাটলে ফুসফুস ও হূদ্যন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, একজন সাঁতারুর অকালমৃত্যুর আশঙ্কা কর্মহীন ব্যক্তির অর্ধেক। সপ্তাহে আড়াই ঘণ্টাও যদি কেউ নিয়মিত সাঁতার কাটেন তবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হূদেরাগ ইত্যাদি দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক ব্যাধির ঝুঁকি অনেক কমে যাবে।বর্তমানে শহরে সাঁতার জানা মানুষই এখন কম। কিন্তু সাঁতারের আছে নানা স্বাস্থ্যসুফল।সাঁতার কাটতে গেলে শরীরের প্রায় সব কটি সন্ধি ও মাংসপেশির সুষম ব্যবহার হয়। এটি পেশির দক্ষতা ও শক্তি বাড়ায়, সন্ধি ও লিগামেন্টের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে। আর্থ্রাইটিস ও স্পনডালাইটিসের রোগীদের জন্য সাঁতার একটি কার্যকর ব্যায়াম। বিশেষ করে অ্যাংকাইলোজিং স্পনডাইলাইটিস নামের মেরুদণ্ডের সমস্যা উত্তরণে সাঁতার রীতিমতো উল্লেখযোগ্য চিকিৎসাব্যবস্থা। যারা হাঁটাহাঁটি করতে পারেন না, তাঁদের জন্য সাঁতার একটি বিকল্প ব্যবস্থা। সাঁতার ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বা শক্তি বাড়ায়। এটি প্রমাণিত যে ছয় সপ্তাহ নিয়মিত সাঁতার কাটলে যে কারও ফুসফুসের আয়তন ও বাতাস ধরা-ছাড়ার দক্ষতা দুটোই বাড়ে। হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস রোগীদের জন্য এটি সুখবর। ছয় সপ্তাহ নিয়মিত সাঁতার ক্লাসের পর শিশুদের হাঁপানির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়, মুখে শ্বাস নেওয়ার প্রবণতা ও ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার অভ্যাসও যায় কমে। l

১. দৈনিক ২০-৩০ মিনিট সাঁতার আপনার ভবিষ্যৎ হূদেরাগের ঝুঁকি ৩০-৪০ শতাংশ কমিয়ে দেবে। কমাবে উচ্চ রক্তচাপও। একই সঙ্গে কমাবে ক্ষতিকর চর্বি ও কোলেস্টেরল, কিন্তু বাড়াবে উপকারী চর্বি। সপ্তাহে তিন দিন ৩০ মিনিট করে ব্রেস্ট স্ট্রোক সাঁতারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১০ শতাংশ কমবে।

২. সাঁতারে ওজন কমে। প্রতি ১০ মিনিট ব্রেস্ট স্ট্রোক-৬০ ক্যালরি, ব্যাক স্ট্রোক-৮০ ক্যালরি, ফ্রিস্টাইল ১০০ ক্যালরি ও বাটারফ্লাই স্ট্রোক খরচ করে ১৫০ ক্যালরি।

৩. মস্তিষ্কের হিপোক্যামপাস এলাকার স্নায়ু উজ্জীবিত হয়। ফলে মানসিক চাপ কমে। মন-মেজাজ ভালো হয়, বিষণ্নতা কমে।

ডা. তানজিনা হোসেন
হরমোন ও ডায়াবেটিস বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৩

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *