মহামারির সময় ঘরের ভিতরেই হোক সবুজের অভিযান

মহামারির সময় ঘরের ভিতরেই হোক সবুজের অভিযান
গতবছর যেমন জন্মদিন, বিবাহ বা প্রেমবার্ষিকী, দুর্গাপুজো, দীপাবলি একা একা কাটিয়েছেন এবছরও পরিবেশ দিবসে একলা ঘরে আপনি একদম একলা। তাতে অবশ্য ক্ষতি নেই। একসপ্তাহ ধরে চলবে পরিবেশ দিবস। বাড়িতে বসে থেকে না হয় একটু গাছপালা নিয়েই ভাবনা চিন্তা করা গেল।
এবারের পরিবেশ সপ্তাহে বরং ঘরের মধ্যেই সবুজ বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলুন। বাইরে বেরোতে না পারলে অন্তত প্ল্যানিংটা সেরে ফেলুন। লকডাউন উঠলে না হয় ঘরে সবুজের অভিযান শুরু করা যাবে। কথা হচ্ছে ঘরের মধ্যে গাছ রাখা নিয়ে। কম খরচে ঘর সাজানোর দারুণ উপায় হল গাছ। তাছাড়াও বিশেষ কয়েক প্রকার গাছ আবার শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সেগুলি ঘরে রাখা যেমন উপকারি তেমনই ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অসাধারণ অপশন।

সহজে যত্ন

নিজের ছোট্টো ফ্ল্যাটের ছোটো টব বা কাঁচের বোতলে সুন্দর সুন্দর গাছ দেখে মন ভালো করেন মধ্যবিত্ত বাঙালি। অনেকে আবার গাছ পছন্দ করলেও যত্নের সময় নেই বলে সখ পালনে অনীহা। তাহলে এমন কিছু গাছের সন্ধান দেওয়া ভালো যেগুলি যত্ন নিতে গেলে খুব একটা বেগ পেতে হয় না। অথচ এদের উপস্থিতিতে বাড়ির সৌন্দর্য একলাফে বেড়ে যায়।

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা গাছ দেখতে যেমন সুন্দর তেমনই এর ভেষজগুণ। ত্বক সংক্রান্ত ওষুধ বা মলম ইত্যাদি তৈরিতে অ্যালোভেরার ব্যবহার করা হয়। বাড়িতে অ্যালোভেরা গাছ থাকলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে। ছোটোখাটো কাটা-ছেঁড়া, ব্রণ-ফুসকুড়ি, ফোস্কা, আগুন এবং রোদের তাপে পোড়া ত্বক অথবা ফ্রস্ট বাইট থেকে মুক্তি পেতে অ্যালোভেরার পাতার জেলটি মেখে নিলে সমস্যা নির্মূল হয়। চুলের খুশকি দূর করলেও অ্যালোভেরা জেল কার্যকরী। ত্বকে বা মাথার তালুতে এই জেল লাগালে ঠান্ডা অনুভূতি হয়। অ্যালোভেরা গাছের নিয়মিত জল দিতে হয়। সরাসরি রোদে গাছ শুকিয়ে যেতে পারে। তাই ছায়া মেশানো রোদে যেমন বারান্দা, জানালায় এই গাছ রাখা যায়।

স্পাইডার প্ল্যান্ট

স্পাইডার প্ল্যান্ট প্রাকৃতির বায়ু পরিষোধক। এই গাছ রাখলে কার্বন মনোক্সাইড সহ ঘরের অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস শোষণ করে নেয়। ঘরের পরিবেশ সুস্থ রাখে। ঘর সাজানোর উপাদান হিসেবেও এই গাছ বেশ জনপ্রিয়। আপনার ঘরটি যদি বদ্ধ প্রকৃতির হয় তাহলে ঘরে স্পাইডার প্ল্যান্ট রাখুন। ঘর দেখতে সুন্দর লাগবে আবার নিজের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দওয়া যাবে।

পিস লিলি

ঘর সাজানোর আগেকটি অসাধারণ এবং উপকারি গাছ হল পিস লিলি। গরমকালে এই গাছের সাদা ফুল দেখলে মন ভালো হয়ে যায়। বাতাষের দূষণ দূর করতে এই গাছটিও সিদ্ধহস্ত। ক্ষতিকারণ অ্যামোনিয়া, বেনজেন, জাইলিন, ফর্মালডেহাইড এবং ট্রাইক্লোরিথাইলিনের মতো বিষাক্ত পদার্থ শুষে নেয় এই গাছ। ঘরকে রাখে দূষণমুক্ত। বারান্দা, খাবার টেবিলের পাশে, শোবার ঘরের জানালায় এই গাছ রাখা যেতে পারে।

বোস্টন ফার্ন

রাস্তার ধারে অবহেলিত গাছটির উপকারিতা শুনলে অবাক হবেন। বোস্টন ফার্ন সহজেই বাতাসের আর্দ্রতা শুষে নিতে পারে। তাই স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে এই গাছ রাখলে আখেরে উপকার হয়। শুধু তাই নয় বাতাষের দূষ শোষণ করতেও এটি ওস্তাদ।

এই গাছগুলি জোগাড় করা খুব একটা কঠিন নয়। রাস্তার আশপাশেই পাওয়া যায়। ঘরে এসে যত্ন করে টবে পুঁতলে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি হয় এবং ঘরের পরিবেশও স্বাস্থ্যকর হয়। পরিবেশ সপ্তাহ পালনের ভালো অপশন এটি।

মানি প্ল্যান্ট

সবচেয়ে সস্তা অথচ জনপ্রিয় গাছ। ফেনশ্যুই বিশ্বাসে এটি বাড়িতে থাকলে নাকি অর্থ উপার্জন বাড়ে। তাই কিছুটা সখে কিছুটা অন্ধবিশ্বাসের উভর নির্ভর করেই বাঙালি বাড়িতে ঠাঁই পায় মানি প্ল্যান্ট। যে মাটি এবং জল দুই জায়গাতেই মানি প্ল্যান্ট হতে পারে। লতানো গাছটির একটা ছোটো অংশ কেটে বোলতের জলে দিয়ে দিন দেখবেন কিছুদিনের মধ্যেই গাছ বড় হয়ে গেছে। ইচ্ছে হল টবে পুঁতে দিন তাও গাছ বাড়বে। লতানো গাছ ঘরের যে কোনও অংশে সাজাতে পারেন।

জেড প্ল্যান্ট

হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে যেন বনসাই। যদিএ মন দিয়ে লক্ষ্য করলে বোঝা যায় যে এটি জেড প্ল্যান্ট। ছোটো ছোটো পাতার গাছটি দেখতে অপূর্ব। এই গাছটিরও বিশেষ যত্নের প্রয়াজোন হয় না। সপ্তাহে একবার জল দিলেই ইনি খুশি। শুধু রোদটাই যা বেশি লাগে।

চিনা ওয়াটার বাম্বু

ফেনশ্যুই মতে চিনা ওয়াটার বাম্বু নাকি ভাগ্য ফিরয়ে দেয়। তাই এর আরেক নাম লাকি বাম্বু ট্রি। ছোট্টো একটি কাঁচের বাটিতে লাকি বাম্বু ট্রি-কে রেখে দিন। ৩-৪ দিন অন্ত সামান্য জল দেবেন। ব্যস্, এই গাছ লালন পালনে আর কিছু করতে হয় না। ইচ্ছে করলে লাকি বাম্বু ট্রি-র যে বাটিতে রাখবেন তা রঙিন পাথর দিয়ে সাজিয়ে ফেলুন। তাহলে গাছটি আরও আকর্ষণীয় দেখতে লাগবে।

ক্যাকটাস

যে কোনও ধরনের ক্যাকটাসই ঘরের সৌন্দর্য বদলে দেয়। কুসংস্কারাচ্ছন্ন মন না হলে ঘর সাজান ক্যাকটাস দিয়ে। এর আভিজাত্যই আলাদা। গাছের যত্ন নিতে বিশেষ সময় ব্যয় করতে হয় না। ২ ইঞ্চ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাইজের এবং বাহারের ক্যাকটাস পাওয়া যায়। আর সবচেয়ে মজার কথা হল যে কোনও পরিবেশেই এই গাছ নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।

মহামারির সময় ঘরের ভিতরেই হোক সবুজের অভিযান

ঘরে যদি গাছ লাগানোর সুযোগ না থাকে তাহলে ফল খাওয়ার পর তার বীজ বা আঁটি কাছে পিঠের মাটিতে ফেলে দিন। বর্ষার জল পেয়ে নিজে থেকেই গাছ হয়ে যাবে। পরিবেশে গাছের সংখ্যা যত বাড়তে ততই এই বিশ্ব শিশুর বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। আগামীর কাছে অঙ্গীকারের সম্মান বজায় থাকবে।

Lifestyle News in Bengali, লাইফস্টাইল খবর, Health Tips, Fashion Trends and Tips in Bangla
2021-06-07 02:12:59
Source link

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *