লো ব্লাড প্রেসার? অবহেলা নয়, মেনে চলুন সঠিক ডায়েট

লো ব্লাড প্রেসার? অবহেলা নয়, মেনে চলুন সঠিক ডায়েট

হাইলাইটস

  • তুলনায় লো ব্লাডপ্রেসার (low blood pressure) দেখভাল হয় অনেকটা দুয়োরানির মতো।
  • অল্প বিস্তর সময় চিকিৎসকরাও লো ব্লাডপ্রেসারকে (low blood pressure) বিশেষ গুরুত্ব দেন না।
  • কঠিন কঠিন ওষুধের পরিবর্তে খাবার-দাবার এবং বিশ্রামের উপরেই জোরে দেন বেশি। তাই লোকজনও লো ব্লাডপ্রেসারকে বিশেষ পাত্তা দেয় না।

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: জীবনে চাপ নিয়ে চাপের শেষ নেই। কাজের চাপ, দায়িত্বের চাপ, রোগের চিন্তার চাপ, দাম্পত্য কলহের চাপ, প্রেমিক বা প্রেমিকা থাকলে চাপ, আবার না থাকলেও চাপ। অর্থ থাকলে চাপ, না থাকলে চাপ। আবহাওয়ায় উষ্ণতা বাড়লে চাপ, বৃষ্টি হলে চাপ। বিরিয়ানির সঙ্গে মন মতো চাঁব না পেলেও চাপ।

অনেকটা সুকুমার রায়ের অবাক জলপানের জলের প্রকারভেদের মতো চাপেরও প্রচুর ভিন্নতা। তবে সবকিছু চাপের মধ্যে যে চাপটা কাটিয়ে ওঠা একটু দুষ্কর হয় তা হল রক্তের চাপ। কারণ এই চাপ কম বেশি হলে বাকি চাপগুলির সঙ্গে মোকাবিলা করা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

রক্তচাপ (blood pressure) আবার দুই রকমের। উচ্চ বা হাই ব্লাডপ্রেসার এবং নিম্ন বা লো ব্লাডপ্রেসার। উচ্চ রক্তচাপটি আবার বেশ রাশভারি। তাকে সবসময় তোয়াজ করে চলতে হয়। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, ওষুধ খাওয়া, পরিমাপ মতো খাবার খাওয়া, জীবনযাত্রায় নিয়ম মেনে চলা এবং নির্দিষ্ট সময় বিশ্রাম নিতে হয় এই হাই ব্লাডপ্রেসারকে (blood pressure) নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

তুলনায় লো ব্লাডপ্রেসার (low blood pressure) দেখভাল হয় অনেকটা দুয়োরানির মতো। অল্প বিস্তর সময় চিকিৎসকরাও লো ব্লাডপ্রেসারকে (low blood pressure) বিশেষ গুরুত্ব দেন না। কঠিন কঠিন ওষুধের পরিবর্তে খাবার-দাবার এবং বিশ্রামের উপরেই জোরে দেন বেশি। তাই লোকজনও লো ব্লাডপ্রেশারকে বিশেষ পাত্তা দেয় না। কিন্তু একেবারে পাত্তা না পেলে এই লো-ব্লাডপ্রেসারও (low blood pressure) কিন্তু মারাত্মক রোগের আকার ধারণ করতে পারে।

ওষুধ খেতে হয় না বলে লো ব্লাডপ্রেসারকে অবহেলা করবেন না। মনে রাখবেন রোগ হওয়ার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর উপায়। ডায়েট করেই যদি রোগ সারানো যায় তাহলে সবচেয়ে ভালো।

লো-প্রেসার আসলে কী?
সাধরণত আমরা যাকে বলি লো প্রেশার (low blood pressure) তাকে ডাক্তারি ভাষায় বলে হাইপোটেনশন। একেক জন একেক কারণে এর শিকার হন। মানুষের রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের 90/60 এবং 120/80 মিলিমিটারের মধ্যে থাকলে (mm Hg), তাকে স্বাভাবিক বলা হয়। কিন্তু রক্তচাপ এই মাত্রার থেকে কম হলেই তা হল লো-প্রেশার।

কখন বুঝবেন লো-প্রেসার (low blood pressure) হয়েছে?
* ক্লান্তি শরীরে চেপে বসবে
* চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে
* কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা বা দ্বিধা বৃদ্ধি পাওয়া
* মাথা ঘোরা, গা গোলানো, বমিভাব
* শরীর দুর্বল লাগার মতো একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কেন এবং কাদের হয়?
* শরীরের পুষ্টির অভাব
* অতিরিক্ত কাজ এবং দায়িত্বের চাপ
* রক্তাল্পতা
* স্নায়ুতন্ত্রের অসুখ
* অতিরিক্ত চিন্তা
* ডিহাইড্রেশন
* শরীর থেকে অতিরিক্ত স্রাব (সাদা বা লাল) নিঃসরণ
* শরীর থেকে অনেকটা রক্ত বের হয়ে যাওয়া
* হার্টের অসুখ
* অতিরিক্ত অ্যালার্জির সমস্যা
* রক্তে সুগার কমে যাওয়া
* নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
* গর্ভধারণ
* কোনও ক্ষতিকর সংক্রমণ
* থাইরয়েড
* অতিরিক্ত শরীর চর্চা বা অতিরিক্ত ডায়েট মেনে চলা
* পরিবারের নিকট আত্মীয়ের থেকে জন্মসূত্রে রোগ পাওয়া
* বয়স বৃদ্ধি
* হঠাৎ কোনও শারীরিক বা মানসিক পরিবর্তনের কারমে রক্তচাপ কমে যেতে পারে।

সঠিক ডায়েট
চিকিৎসকের পরামর্শ তো মেনে চলবেনই। সঙ্গে মেনে চলুন সঠিক ডায়েট।
* জল-সহ প্রচুর পরিমাণে চরল পদার্থ খান। ডাবের জল, ফলের রস, ডাল, ঝোল, স্যুপ, চা খান। শরীরকে শুষ্ক হতে দেবেন না।
* ভিটামিন বি 12 যুক্ত খাবার খান। এটি অ্যানিমিয়ার প্রভাব কম করে। রক্তচলাচল স্বাভাবিক করে।
* প্রতিদিন ডিম খান। সঙ্গে খান ডানা শস্য, টক জাতীয় ফল, সবুজ শাক-সবজি, মাংসের মেটে।
* নুন খান। রক্তের চাপ বাড়াতে এটি খুব ভালো কাজ দেয়। এছাড়াও খান চিজ, মাছ, অলিভ, আচার।
* কফি বা কফিজাত দ্রব্য ব্লাডপ্রেশারকে খুব তাড়াতাড়ি বাড়িয়ে দেয়। সাময়িকভাবে শরীরে এনার্জি আনতে কফি খাওয়া যেতেই পারে।
* তবে দিনে তিন থেকে চার কাপের বেশি কফি খাওয়া উচিত নয়।

লো ব্লাড প্রেসার? ডায়েটে রাখুন এই সব খাবার, মিরাকল ঘটবেই!

কয়েকটি পরামর্শ
* রক্তচাপ কম হলে তাকে অবহেলা করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
* গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চেকআপ করান।
* একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বার বার খাবার খান।
* প্রচুর জল খান। অ্যালকোহল বর্জন করুন।
* শরীরচর্চা করুন। তবে গরমে শরীরচর্চা কম করা ভালো।
* ওজন কমাতে গিয়ে ভুলভাল ডায়েট করবেন না।
* অতিরিক্ত সনা বা স্টিম বাথ নেওয়া অস্বাস্থ্যকর।
* দিনে অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমোন। শরীর দুর্বল থাকলে ঘুমের পরিমাণ বাড়ান।
* সবসময় বসে বা দাঁড়িয়ে থকাবেন না। শরীরকে অ্যাক্টিভ রাখুন। শোওয়া, বসা, দাঁড়ানোর পোজিশন কিছুক্ষণ অন্তর বদলান।
* অতিরিক্ত ঘুম বা শুয়ে থাকবেন না।
* ব্লাড-প্রেশার হঠাৎ কমে গেলে পায়ে মোজা পরে নিন।
* গর্ভাবস্থার প্রথম ২৪ সপ্তাহ রক্তচাপ কম থাকাটা স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ এবং ডায়েট মেনে চলুন।
* একা একা চিকিৎসা করতে যাবেন না।
* রক্তের চাপকে কমিয়ে বাড়িয়ে আর নিজে চাপ নেবেন না।

Health and Fitness Tips in Bengali শরীর-গতিক, Yoga and Exercise Tips in Bangla
2021-05-24 13:39:00
Source link

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *