মেছতার চিকিৎসা নিয়ে প্রতারণা!

যেহেতু মেছতার কোন স্থায়ী চিকিৎসা নেই। তাই ব্যয়বহুল লেজার চিকিৎসার কোন প্রয়োজন নেই।

আমি সব সময় নানা উদাহরণ দিয়ে লিখে থাকি এটা সাধারণত এ কারণেই করে থাকি রোগীরা যাতে সহজ করে বুঝতে পারে। আজকাল বেশ সমস্যা হচ্ছে মেছতা বা গবষধংসধ-এর রোগীদের নিয়ে। মেছতা হচ্ছে মুখের ত্বকে হালকা থেকে গাঢ় পিগমেন্ট-এর আস-রন। সাধারণত: মুখে সূর্যের তাপ বা আগুনের তাপ বেশী লাগলে মেছতার দাগ আরও প্রকট হয়। আমার কাছে আসা মেছতার প্রচুর রোগী সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে ফিরে যায়। গত বুধবার এমনি একজন ভদ্র মহিলা আসলেন। বললেন, আপনি পত্রিকায় লেখেন। আমি আপনার লেখার একজন ভক্ত। টেলিভিশনে দেখেছেন মেছতা মুহুর্তেই নিরাময় হচ্ছে। অনেক বিউটিশিয়ান, এ্যারোমা থেরাপিষ্ট ও অনুরূপ প্রচার চালাচ্ছেন। অপপ্রচার চালিয়ে সরলপ্রাণ মহিলাদের ভেনিটিব্যাগ খালি করে দিচ্ছেন। আমি সাধারণত: যেসব পুরুষ মহিলা প্রচার মাধ্যমের তথ্য দেখে আমার কাছে আসেন তাদের নিয়ে প্রচণ্ড ঝামেলায় পড়তে হয়। কারণ তারা বিশ্বাসই করতে চায়না মেছতা কখনোই স্থায়ী ভাবে ভালো হয়না। যারা দাবী করেন মেছতা চিরদিনের জন্য নির্বাসনে পাঠাতে পারেন তাদেরকে প্রতারক বলবো কিনা জানিনা, তবে এটা এক ধরনের অনৈতিক অর্থ উপার্জন। বিজ্ঞাপনের বদৌলতে এসব সম্ভব।

যাহোক, আমার কাছে মেছতার চিকিৎসার জন্য আসা ভদ্রমহিলাকে দীর্ঘ আলোচনার পর বুঝাতে সক্ষম হলাম শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর কোথাও মেছতার চিকিৎসা সম্ভব নয়। গত ১৪ থেকে ১৬ই মে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হলো ডার্মাটোলজি কনফারেন্স। আমার শিক্ষা গুরু দেশের স্বনামধন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম ইউ কবীর চৌধুরী, বারডেম হাসপাতালের চর্ম রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রেজাবিন জায়েদ, হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের কনস্যালট্যান্ট ডা: আব্দুস সামাদসহ আমরা চার জন অংশ নিয়েছিলাম এশিয়ার এই বৃহৎ ডার্মাটোলজি কনফারেন্সে। এই কনফারেন্সে অনেক আপডেট নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু মেছতার চিকিৎসার কোন আপডেট উপস্থাপিত হয়নি। এশিয়ায় ডার্মাটোলজির প্রবাদ পুরুষ আমার শিক্ষক সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল স্কিন সেন্টারের সিনিয়র কনস্যালট্যান্ট অধ্যাপক গুহ সব সময় বলেন, লেজার ও কসমেটিক ডার্মাটোলজি নিয়ে কখনও প্রতারণার আশ্রয় নেবেনা। রোগীদের বলবে মেছতা কখনও স্থায়ীভাবে ভালো হয় না। এ বছরও সিঙ্গাপুর ডার্মাটোলজি আপডেট এর অন্যতম আলোচক ছিলেন অধ্যাপক গুহ। এসব উদাহরণ তুলে ধরলাম এ কারণে যে পাঠকরা যাতে বুঝতে পারেন আমি একটা কঠিন সত্য কথা বলার চেষ্টা করছি। আর তা হচ্ছে মেছতা কখনও স্থায়ীভাবে ভালো হয় না। কোন চটকদার প্রচারণা দেখে বিভ্রান- হবার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ডাক্তার, বিউটিশিয়ান বা অ্যাসথেটিশিয়ানের কাছে জিজ্ঞেস করবেন মেছতা স্থায়ীভাবে নিরাময় হবে কিনা। যদি কেউ এমন দাবী করেন তার কাছে বিস-ারিত জানতে চাইবেন। যদি সনে-াষজনক জবাব পান এবং চিকিৎসার ধরণ সম্পর্কে ধারণা পান তাহলে অবশ্যই সিদ্ধান- নিবেন। রোগী হিসেবে এ অধিকার আপনার আছে। মনে রাখবেন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে আপনি ডাক্তার বা এসথেটিশিয়ানের সময়টা কিনেছেন। তাই ডাক্তার বা সংশ্লিষ্টরা রোগীর সব কথা শুনতে বাধ্য। এটা রোগীদের প্রতি কোন আনুকল্য বা দয়া নয়, এটা রোগীর অধিকার।

আমি সব সময় বলে থাকি কসমেটিক ডার্মাটোলজিস্ট বা এসথেটিশিয়ান বা বিউটিশিয়ান বা নিজেরা নানা ধরণের প্রোডাক্ট রোগীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন। আদায় করা হয় আকাশ ছোঁয়া দাম। এসব প্রোডাক্ট কেনার আগে অবশ্যই দেখে নেবেন এসব কসমেটিক কোন দেশের তৈরী, এর ভিতরে কি উপাদান আছে, কখন মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে এবং এই কসমেটিক ব্যবহারে কি ধরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। আপনি নিশ্চয়ই একজন সচেতন শিক্ষিত মহিলা বা পুরুষ। কোন কসমেটিক বা মেডিসিনের সম্পর্কে উপরোক্ত তথ্যের জবাব না পেলে কোন অবস্থাতেই তা ব্যবহার বাঞ্চনীয় নয়। চিকিৎসা, কসমেটিক ডার্মাটোলজি ও এসথেটিক সমাধানের কোন গোপন রহস্য নেই। যদি সেটা বিজ্ঞানসম্মত হয়ে থাকে। আর যদি প্রতারণার ফাঁদে পা দেন তাহলে তা নিয়ে বলার বেশি কিছু নেই।

যাহোক, শেষ পর্যন- সেই ভদ্রমহিলা মেছতার চিকিৎসা নিতে চাইলেন। আমি সাধারণত: প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় নেই রোগীকে তার সমস্যা সম্পর্কে ধারণা দিতে এবং তার সমস্যার কতখানি নিরাময় ঘটবে অথবা আদৌ নিরাময় সম্ভব কিনা। আমি প্রথমেই বলেছি মেছতার কোন স্থায়ী সমাধান নেই। কিছু কিছু চিকিৎসার মাধ্যমে মেছতার দাগ হালকা করা যায়। ক্ষেত্র বিশেষ দাগ একেবারেই আর দেখা যায় না। কিন্তু বড় সমস্যা হচ্ছে যখনই চিকিৎসা বন্ধ করে দেবেন তখন আবার মুখে দাগ ভেসে উঠবে। একারণেই মেছতার দাগের স্থায়ী চিকিৎসা সম্ভব নয়। তবে সাময়িকভাবে মেছতার দাগ তোলার জন্য ওষুধ, একটা ভালো সানস্ক্রিন এবং কিছু নিয়মনীতি মেনে চললেই উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া এমসিডি, কেমিক্যাল পিল এবং লেজারও করা যেতে পারে। কিন্তু এসব চিকিৎসার কোন গ্যারান্টি নেই। তবে বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসার পর আমার কাছে ওষুধের মাধ্যমে আমার কাছে মেছতার নিরাময়ে সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যায় মনে হয়েছে। যেহেতু মেছতার কোন স্থায়ী চিকিৎসা নেই। তাই ব্যয়বহুল লেজার চিকিৎসার কোন প্রয়োজন নেই। যদিও আমরা এখন ব্যবহার করছি বিশ্বের সর্বাধুনিক নন অ্যাবলিটিভ ফ্রাকশনাল লেজার। যাহোক, লেজার নিয়ে আমি কখনই রোগীদের আকৃষ্ট করিনা। তবে শরীরের আচিল, বড় তিল, সেরোবিক ক্যারাটোসিস, মোল, চোখের নীচে চর্বি জমা এসব লেজারও অন্যান্য সার্জারীর মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নির্মূল করা সম্ভব। তবে মেছতা ও মুখের অন্যান্য পিগমেন্ট সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞান এখনও পর্যন- কার্যকর কোন সমাধান বের করতে পারেনি। তবে এর বাইরে যদি কেউ কিছু জানতে চান আমার চেম্বারে আসার দরকার নেই। সমস্যা জানিয়ে ই-মেইল করুন। আপনাদের সব ই-মেইলের জবাব দিয়ে থাকি।

ই-মেইল: [email protected]

ডাঃ মোড়ল নজরুল ইসলাম
চর্ম, এলার্জি ও শারীরিক মিলন সমস্যা বিশেষজ্ঞ
এবং লেজার এন্ড কসমেটিক সার্জন।
সহকারী অধ্যাপক, গণস্বাস্থ্য নগর
হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা।

3 comments

  1. ami mastar problem a vugchi..amr 2 may..2nd mayata howr porpor amr masta dakha dai..& ata akhon kub kharap obostai acha..
    ami jani mastar kono sthai shomadhan nai..tobuo ki korle ba kon medivine use korle ata komte pare ba regular use korle onkta thik hote pare jante chachilm..

  2. অাগে মুখের দুপাশে হালকা দাগ ছিল এখন বেড়ে যাচ্ছে। করনীয় কিছু থাকলে জানাবেন। মেছতা কি ছোঁয়াছে রোগ?

    1. এগুলো না দেখে বলা মুশকিল। আপনি একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে নিন।
      মেছতা ছোঁয়াচে নয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *