একঘেয়েমি কাটাতে পাল্টে ফেলুন নিজের বাড়ির সাজসজ্জা, সুখী গৃহকোণ হবে প্রাণবন্ত

একঘেয়েমি কাটাতে পাল্টে ফেলুন নিজের বাড়ির সাজসজ্জা, সুখী গৃহকোণ হবে প্রাণবন্ত

হাইলাইটস

  • সাধারণ বৈঠকখানা বোরিং লাগতে পারে।
  • তাই এই স্থানটিকে নানান আকার ও রঙের কুশান দিয়ে সাজাতে পারেন।
  • দেওয়ালের রঙের সঙ্গে মানানসই ভাবে কুশান ব্যবহার করুন

এই সময় জীবনযাপন ডেস্ক: একঘেয়েমি কেউই পছন্দ করে না। থাকতে থাকতে এক-না এক সময় মনে হয় যে আমাদের স্বপ্নের বাড়িটি তাঁর পুরনো সতেজতা ও আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেছে। এই চিন্তাধারা নতুন করে বাড়ি সাজানোর জন্য অনুপ্রাণিত করে। কিন্তু ভাবার মতো এই কাজটি করা তত সহজ নয়। কারণ বাড়ি রেনোভেশন ব্যয়বহুল। তাই খুব বড়সড় কোনও পরিবর্তন করে ওঠা যায় না। তবে এমন কিছু আইডিয়া রয়েছে, যার সাহায্যে খুব সহজে এবং সস্তায় নিজের ঘরকে নতুন রূপে সাজিয়ে তুলতে পারবেন। পকেটের ওপর খুব বেশি চাপ না-দিয়ে কী ভাবে ঘর সাজাবেন জেনে নিন—

দেওয়াল নতুন করে সাজান

‘দেওয়ালেরও কান আছে’, এ কথা আমরা সকলেই শুনে ও বলে থাকি। কিন্তু দেওয়ালের মুখও আছে তা কী জানেন? এই দেওয়ালই নানান কাহিনি বর্ণনা করে থাকে। তাই বাড়িকে নতুন করে সাজাতে গেলে সবার আগে দেওয়ালে হাত লাগান। বৈঠক খানার দেওয়াল এমন হওয়া উচিত, যা পরিবার ও সদস্যদের সম্পর্কে নানান কাহিনি শোনাবে। এর জন্য জীবনের সুন্দর মুহূর্তকে দেওয়ালে স্থান দিন। পরিবারের সদস্যদের বিশেষ মুহূর্তের ছবি দিয়ে সাজিয়ে তুলুন দেওয়াল।

আবার রান্নাঘরে নানান মেটাল আর্টিফ্যাক্ট রাখতে পারেন। এটি আপনার হেঁশেলকে নতুন রূপ তো দেবেই, প্রয়োজনে সেগুলি ব্যবহারও করতে পারেবন। রান্নাঘরের দেওয়ালে ওয়াল হুক বা আর্টও টাঙিয়ে দিতে পারেন।

বৈঠকখানা ও রান্নাঘর তো হল, এবার আসা যাক নিজের স্বপ্নের জগত— বেডরুমে। শয়নকক্ষের দেওয়ালে সুন্দর স্টিকার বা ওয়াল হ্যাঙ্গিং লাগাতে পারেন। যে কোনও একটি দেওয়ালে ওয়ালপেপার লাগান। এটি শয়নকক্ষের সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। খোলা আকাশের নীচে ঘুমাতে যাঁদের ভালো লাগে, তাঁরা বদ্ধ শয়নকক্ষে নিজের প্রিয় তারাদের মিস করতে পারেন। তাই বেডরুমেই তৈরি করতে পারেন নিজের একমুঠো আকাশ। ছোট ছোট রাইস লাইট ব্যবহার করে চার দেওয়ালের মধ্যেই তারার জগমগ আলোয় রাত কাটাতে পারেন। বাচ্চাদের ঘর সাজানোর জন্য নিজের সন্তানের পছন্দকে গুরুত্ব দিন।

সুগন্ধে ঘর হয়ে উঠুন তরতাজা

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির সুগন্ধ উবে যেতে পারে। তাই কিছু তাজা সুগন্ধে নিজের ঘর ভরে তুলুন। এর জন্য ব্যয় করতে হবে খুব কম। বাড়ির নানান কোণে ফুলদানি রাখুন। তাতে অর্কিড, পলিয়েন্থিস, মেরিগোল্ড, সূর্যমুখী, ল্যাভেন্ডার, গোলাপ ফুল রাখতে পারেন।

আবার কয়েকদিন অন্তর অন্তর ফুল পাল্টানো ব্যয় সাপেক্ষ হতে পারে। তাই সুগন্ধী মোমবাতি রাখা যায়। এই মোমবাতিগুলি আপনার বাড়িকে নতুন রূপ দেবে, পাশাপাশি এর সুগন্ধে সকলের মন ভরে উঠবে।

নতুন কুশানে সাজিয়ে বসার স্থানকে করে তুলুন আরামদায়ক

সাধারণ বৈঠকখানা বোরিং লাগতে পারে। তাই এই স্থানটিকে নানান আকার ও রঙের কুশান দিয়ে সাজাতে পারেন। দেওয়ালের রঙের সঙ্গে মানানসই ভাবে কুশান ব্যবহার করুন। লক্ষ্য রাখবেন এই বস্তুগুলি যাতে একে অপরকে প্রশংসা জানায়। শুধু বৈঠকখানাই নয়, বেডরুমেও কুশান রেখে নিজের সুখনিদ্রাকে আরও আরামদায়ক করে তুলতে পারেন। এখন বাজারে নানান, রঙ, আকার ও মেটেরিয়ালের কুশান পাওয়া যায়। আবার কাস্টমাইজ কুশানও বানাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের কোনও কিছু প্রিন্ট করিয়ে, সেই কুশান দিয়ে ঘর সাজান।

মেঝে সাজানোর জন্য পুরনো কাপড় ব্যবহার করুন

সুন্দর কার্পেট দিয়ে মেঝে সাজাতে অনেকে ভালোবাসেন। অবসর সময় এর ওপর শুয়ে, বসে কাটাতে ভালো লাগে তাঁদের। এ ক্ষেত্রে প্রতিবার যে নতুন নতুন কার্পেট কিনে আনতে হবে, তা নয়। বরং বাড়িতেই এমন কার্পেট বানিয়ে নিতে পারবেন। কাপড়ের বোনা কার্পেট ব্যবহার করুন গৃহসজ্জার কাজ পুরো করতে। সকলের বাড়িতেই পুরনো শাড়ি, কাপড় থাকে। কেই আবার সেগুলি ফেলতেও চান না। সে ক্ষেত্রে এই কাপড়গুলি দিয়েই নিজের অবসর সময় কাটানোর জন্য কার্পেট বানিয়ে ফেলুন। ঊলের কাপড় যে ভাবে বোনা হয়, ঠিক সে ভাবেই শাড়ি বা অন্য কোনও কাপড় দিয়ে কার্পেট বুনে নিন।

ভিনটেজ ফার্নিচার ব্যবহার করুন

প্রতিটি বাড়ির স্টোর রুমেই কোনও না-কোনও পুরনো ফার্নিচার বা আর্টিফ্যাক্ট থাকে। এই সুযোগে অন্ধকার জগৎ থেকে সেই সমস্ত ফার্নিচার ও আর্টিফ্যাক্টগুলি বার করে নিন। ভালো করে ঝার-পোছ করুন, প্রয়োজনে পালিশ বা বার্নিশও করিয়ে নিন। নিজের বাড়িকে অ্যান্টিক লুক দেওয়ার জন্য বুদ্ধিমানীর সঙ্গে ব্যবহার করুন পুরনো আসবাবপত্রগুলিকে। সোফা, টেবিল, জঙ ধরা পুরনো বাক্স বাড়ির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি সেই সমস্ত জিনিস দেখে স্মৃতির সমুদ্রে ডুব দিয়ে মন ভালো করে তুলতে পারবেন। নতুন ও পুরনোর মেলবন্ধনে আপনার ঘর হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত।

নির্মল বাতাসের জন্য সবুজের সমাহার

আজকাল বাড়িগুলিতে গার্ডেনিং বা গাছ লাগানোর জন্য জায়গা থাকে। এর ফলে ঘর সতেজ হবেই, পাশাপাশি অক্সিজেনের সরবরাহও বাড়বে। আবার দেওয়ালে গাছপালা টাঙিয়ে রাখার জন্য হ্যাঙ্গিং টবও পাওয়া যায়। এ ছাড়াও অব্যবহৃত বোতল, ডিমের ক্রেটে গাছ লাগিয়ে ঝুলিয়ে দিতে পারেন। আবার পুরনো কলসি, পাত্র ইত্যাদিতেও গাছ লাগানো যায়।

এর মধ্যে কোনওটি পছন্দ না-হলে ওয়াল মাউন্টেডে শেল্ভে নিজের পছন্দের ফুল গাছ রেখে সাজিয়ে তুলতে পারেন। আবার বাড়ির নানান কোণায় কিছু ইন্ডোর প্লান্টও রাখা যায়।

টেবিল সাজান সুন্দর করে

এটি বাড়ির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসবাব। তবে অধিকাংশ সময় একাধিক জিনিস বোঝাই করা থাকে এতে। এই টেবিলই গৃহসজ্জার কাজে ব্যবহার করে ঘর করে তুলতে পারেন নতুন। টেবিলের ওপর কোনও শো পিস দিয়ে সাজাতে পারেন। এ ছাড়া সুগন্ধী মোমবাতি, ওয়্যাক্স জার বা টি লাইট হোল্ডার দিয়ে টেবিলের সজ্জা পূর্ণ করা যায়।

জানালার জন্য বেছে আনুন সুন্দর পর্দা

বাড়িকে আরও সতেজ ও তরতাজা করে তোলার অন্যতম পন্থা হল সুন্দর সুন্দর পর্দা দিয়ে জানালা সাজানো। এমন মেটেরিয়াল ও রঙের পর্দা লাগান, যা বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাকৃতিক আলোও বাড়িতে আনতে পারে। যাতে সূর্যের আলোর সঙ্গে পর্দার রঙের মেলবন্ধন ঘটে বাড়ি নানান রঙে রঙীন হয়ে যেতে পারে।

Lifestyle News in Bengali, লাইফস্টাইল খবর, Health Tips, Fashion Trends and Tips in Bangla
2021-08-01 00:19:15
Source link

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *