শিশুসন্তানের হাতে নিজেদের স্মার্টফোন তুলে দেওয়ার সঠিক সময় কোনটি? প্রশ্নটি নিয়ে এ যুগে মা-বাবার বিস্তর ভাবনা রয়েছে। স্মার্টফোনে শিশুদের উপযোগী বিভিন্ন অ্যাপ এবং এটির মাধ্যমে দূর থেকে শিশুদের অবস্থানের ভিডিওচিত্র সরাসরি দেখার সুযোগ থাকায় প্রশ্নটি আরও জোরালো হয়েছে।
মুঠোফোন সেবাদানকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান জ্যাক্ট এক জরিপের ভিত্তিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সী ৫৬ শতাংশ শিশু স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ পায়। আবার দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী ২৫ শতাংশ শিশুর নাগালেও স্মার্টফোন রয়েছে।
কিন্তু এত অল্পবয়সে স্মার্টফোন ব্যবহার কতটা স্বাস্থ্যসম্মত? শিশু মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের কাছ থেকে স্মার্টফোন কেড়ে নেওয়ার আগে কিছু বিষয় ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে। মিডিয়া সাইকোলজি রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক পামেলা রাটলেজ বলেন, মা-বাবাকে এ ব্যাপারে বাস্তববাদী হতে হবে। কোনো শিশু যদি দলভিত্তিক কর্মকাণ্ড বা খেলাধুলায় খুবই সক্রিয় হয়, তাহলে তার স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ লাভের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এ ছাড়া কৌশলগত বা জরুরি প্রয়োজনেও শিশুদের স্মার্টফোন দেওয়া যেতে পারে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিশুরা নিজেদের সামাজিক পরিমণ্ডলে অন্য শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে।
শিশুতোষ এবং শিক্ষামূলক বিভিন্ন অ্যাপ বা প্রযুক্তি-সুবিধা আজকাল স্মার্টফোনে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। গুগল প্লে স্টোরে রয়েছে শিশুদের মৌলিক ভাষা-শিল্প শিক্ষণ থেকে শুরু করে ক্যালকুলাসে দক্ষতা বৃদ্ধির সহায়ক প্রযুক্তি। এসব থেকে দূরে রাখার ফলে একটি শিশু অন্যদের চেয়ে যে পিছিয়ে পড়বে না, তা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ কম। তবে রাটলেজ মনে করেন, শিশুর আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক পরিপূর্ণতা বিবেচনা করেই তার হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়া উচিত। কোনো কোনো শিশু আবার স্মার্টফোন ব্যবহারে বিস্ময়কর দক্ষতাও দেখাতে পারে।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সোশিওলজি অব সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক শেরি টার্কল শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ দিতে কোনো সমস্যা দেখেন না। তবে এ ধরনের যন্ত্র শিশুদের মুখোমুখি যোগাযোগের দক্ষতায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, শিশুদের সামাজিক সমৃদ্ধির ও বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশে অন্য শিশুর সঙ্গই আসলে ফলপ্রসূ হয়ে থাকে। লাইভসায়েন্স।

No tags for this post.