মানানসই গয়নায়

গয়না পরাটা মানুষের ঐতিগ্যগত অভ্যাস। বহু প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রকমের গয়না পরে আসছে মানুষ। আর তাই বিশ্বের প্রতিটি দেশেই গয়না পরাটা সংস্কৃতিরই অংশ। আদি সুপ্রাচীনকাল থেকে মানুষের এই গহনাচর্চা বর্তমান সভ্যসমাজের হাল ফ্যাশনেও কমেনি, বরং সময়ের সাথে বদলেছে গহনাচর্চার বিচ্চুতি। বর্তমানে গহনাচর্চা একটি শিল্পই বটে। প্রাচীনকালের জঙ্গলে বাস করা মানুষ গহনা পরত পশুর হাড়, দাঁত ইত্যাদি দিয়ে বানানো। তখন পোশাকের সাথে বা গায়ের রং, ফিগার, অনুষ্ঠানের সাথে ম্যাচিং করার বিষয়টি ছিল না। কেননা, আমাদের আদিপুরুষরা ততটা সভ্য ছিলেন না। কিন্তু আজকাল মেয়েরা স্কাট, ফতুয়া, শার্ট বা শাড়ি যাই পারুক না কেন এর সঙ্গে এবং বয়সের সঙ্গে মানিয়ে তারা গয়না পরে থাকে। বর্তমানে বিশেষভাবে অ্যান্টিক ও ধাতব গয়নার চাহিদা বেশি। অনেকেই স্কার্টস-টপসের সাথে লম্বা ঝুলানো কানের দুল পড়ে থাকে। কানে বড় এই দুল পরলে গলায় তেমন কিছু পরার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ, এই দুলগুলো অনেক ক্ষেত্রে ঘাড় অবধি পড়ে। আধুনিক সময়কালের বিভিন্ন বয়সের নারীরা নিজেদের পোশাকের সাথে ম্যাচ করে হাতে পিতলের, রূপার, মাটির বা হাড়ের ব্রেসলেট বা বালা পড়ে থাকেন।

ক্যাপ্রি, ফতুয়ার সঙ্গে পরতে পারেন গলায় লম্বা মালা, পায়ে মেটাল বিডসের পায়েল। পায়ে বিভিন্ন রং ও ধরনের পায়েল ও আঙ্গুলে বড় আকৃতির আংটি পরলে একজন নারী হয়ে উঠতে পারেন বেশ আকর্ষণীয়। অন্যের দৃষ্টি কেড়ে নেয়া যেতে পারে হাতে, রং-বেরঙের চুরি ও বালা পরতে পারলে। তবে যাই পরা হোক না কেন খেয়াল রাখতে হবে আপনার গয়না পোশাকের সাথে মানানসই হলো কিনা। আবার শরীরে গয়নার পরিমাণ বেশি হলেও সৌন্দর্যের বদলে বেড়ে যেতে পারে আপনার কদর্য। তাই কানে বড় দুল পরলে শুধু পায়ে পায়েল ব্যবহার করুন। আবার গয়না হাতে বেশি হলে গলায় চাইলে পরতে পারেন ছোট্ট আকৃতির লকেট। আর বোঝার চেষ্টা করুন গয়না পরার মানে হলো আপনার একটি বিশেষ অংশকে ফুটিয়ে তোলা। বিষয়টি মাথায় রেখেই গয়না নির্বাচন করুন; তবেই আপনার সৌন্দর্য অন্যের চোখে ধরা পড়বে। বর্তমানের অধিক জনপ্রিয় গয়নাগুলোর হিসাব করতে গেলে পিতল, কাঠ, কড়ি ও সুতার কানের দুল, হাতের ব্রেসলেইট, চুড়ি, বালা, গলায় অক্সিডাইজ ও পিতলের নেকলেসই চোখে পড়ে। সঙ্গে বিভিন্ন স্টাইলের পায়েল ও খাড়ু তো থাকছেই। এছাড়া হাত ও পায়ের আঙ্গুলের আংটিও হাল ফ্যাশনের মানানসই এবং অন্যতম একটি উপাদান। এ তো গেল গয়নার ইতিহাস, রকম-সকম ব্যবহার রীতি। এবার একটু জেনে নেয়া যাক এসব সুপারহিট গয়নার মূল্য তালিকা। আপনি ২০-৫০০ টাকার মধ্যে পেতে পারেন বিভিন্ন উপাদানের কানের দুল। মাটি, কড়ি, পিতল, কাঠ ও সুতার তৈরি গলার গয়না পেতে আপনাকে খরচ করতে হবে ৫০-১৫০০ টাকা। হাতের ব্রেসলেটের দাম নিবে ৩০-৩০০ টাকা, খাড়ু নিবে ২৫০-১০০০ টাকা, হাতের বালা পাবেন ২৫০-৫০০ টাকায়। হাত ও পায়ের আংটির জন্য দাম পড়তে পারে ১০-৩০০ টাকা পর্যন্ত। আর এ সুলভ মূল্যে উন্নতমানের গয়নার জন্য যেতে পারেন আড়ং, রং, যাত্রা, নগরদোলা, নিত্যউপহার, নন্দনকুঠিরসহ ছোট বড় ফ্যাশন হাউস ও গয়না দোকানে। তবে আরও কম মূল্যে গয়না সংগ্রহের জন্য নিউমার্কেট ও গাউছিয়া ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয়। গয়না আপনার সুন্দর রুচি বহন করে। তাই গয়না বাছাই করুন সতর্কতায় এবং নিজের শারীরিক গঠন, পোশাক-আশাকের প্রতি ভালোবাসা রেখে।

লিমন আহমেদ
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, জুন ০৮, ২০১০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *