মনের জানালা – মার্চ ১২, ২০১১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহতাব খানম দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিষয়টি পড়াচ্ছেন। তিনি আপনার মানসিক বিভিন্ন সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান দেবেন। অল্প কথায় আপনার সমস্যা তুলে ধরুন। আপনার সঠিক পরিচয় না দিতে চাইলে অন্য কোনো নাম ব্যবহার করুন। —বি.স.

সমস্যা
সম্মান দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছি। কলেজে পড়ার সময় ওই কলেজেরই একটা ছেলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়। সম্পর্কের তিন বছরের মাথায় সে আমার এবং আমার মায়ের সঙ্গে পুরো একটি বছর মিথ্যা বলে। এবং আমাকে একটি বছর পড়াশোনা থেকে দূরে রাখে। এর প্রধান কারণ, তার এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া (যা আমি জানতাম না)। এক বছর পর তার মায়ের সঙ্গে আমার প্রথম কথা হয় এবং তিনি আমাকে তখন ওর সম্পর্কে সব সত্য বলে দেয়। সব কিছু শোনার পরও আমি তার সঙ্গে এক বছর যাবৎ সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছি। এখন সমস্যা হচ্ছে, আমি তাকে আগের মতো ভালোবাসতে ও বিশ্বাস করতে পারছি না। আবার যখন ভাবি সে আমার সঙ্গে মিথ্যা বলে ঠকিয়েছে, তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করব, তাও পারি না। কোথায় যেন আটকে যাই। বুঝতে পারি না, এটাই কি ভালোবাসার টান? প্রতি মুহূর্তে এসব ভাবতে ভাবতে পাগল হয়ে যাচ্ছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

পরামর্শ
সে ঠিক কী মিথ্যা বলে তোমাকে এক বছর পড়া থেকে বিরত রেখেছে, সেটি বোঝা গেল না। সে একই সঙ্গে কীভাবে তোমাকে এবং তোমার মাকে বোকা বানাল সেটাই অবাক লাগছে। ওর কথায় প্রভাবিত হয়ে তুমি যে নিজের ক্ষতি করেছ সেটা মনে করে তুমি কি অনুতপ্ত? ভেবে দেখবে। আশা করি, তুমি নেতিবাচক অনুভূতিগুলো কমিয়ে এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেবে। ভালোবাসা ছাড়াও একটি সম্পর্ক কিন্তু বিশ্বাস, স্বচ্ছতা বা সততা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপরে দাঁড়িয়ে থাকে। তুমি খুব ভালো করে ভেবে দেখো, তুমি কি শুধু ওকে ভালোবাস বলেই সম্পর্কটি টেনে নিয়ে যাচ্ছ? যদি তা-ই হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকতেই পারে। আর সে রকম কিছু ঘটলে তুমি লেখাপড়া শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে তো? প্রতিটি মেয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতাই তার সবচেয়ে বড় অলংকার এবং গর্বের জায়গা হওয়া দরকার।
তোমার লেখাপড়া ঠিকমতো না হলে এবং যে মানুষটি তোমাকে দীর্ঘদিন প্রতারণার ভেতরে রেখেছে, তার প্রতি এভাবে মানসিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে চলতে থাকলে তুমি নিজেকে শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখতে পারবে কি? তোমার আত্মবিশ্বাস এবং আত্মমর্যাদার জায়গাটি কতটা দৃঢ় সেটি খুব ভালো করে ভেবে দেখো। নিজেকে কারও তুলনায় একটুও ছোট করে দেখবে না। ছেলেটিকে যদি বিশ্বাস করতে না পারো তাহলে শুধু সম্পর্ক রক্ষার খাতিরে এটি চালিয়ে যাবে কি না সেই সিদ্ধান্ত তোমাকেই নিতে হবে। ছেলেটির সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে চললেও প্রতিনিয়ত কষ্ট পাচ্ছ, আবার সম্পর্ক ছিন্ন করলেও তুমি একটি শূন্যতা এবং বিষণ্নতার ভেতরে কিছুদিন থাকবে। দুই দিকেই কষ্ট আছে। কাজেই তোমাকে খুব ভালো করে যাচাই করে নিতে হবে কোনটি করলে কষ্টের পরিমাণ একটু হলেও কম হবে। যেদিকে কষ্ট কিছুটা কম, সেদিকটা বেছে নিয়ে আর পেছনে একদম না তাকিয়ে পথ চলো। আর হ্যাঁ, লেখাপড়া কিন্তু অবশ্যই চালিয়ে যাবে।

সমস্যা
আমি এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ি। কোনোখানে যাওয়ার সময় আমার পেটে মোচড় দিয়ে বাথরুমের বেগ হয়। সমস্যাটা আমার ছোটবেলা থেকে। সমস্যাটা যখন প্রথম দেখা দেয় তখন আমার বয়স ছিল চার। সমস্যাটা ঠিক তখনই দেখা দেয়, যখন আমি বাসা থেকে কোথাও রওনা হচ্ছি। কিন্তু বাসায় থাকলে সবকিছু স্বাভাবিক থাকে। এ নিয়ে অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি, কোনো লাভ হয়নি। সবাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কিছুই পাননি। ডা. এম আর খানকেও দেখিয়েছিলাম। বলা বাহুল্য তিনিও কোনো সমস্যা পাননি। সব ডাক্তারই বলেন এটা নাকি মনের ভয়ের কারণে হয়। কিন্তু আমি যখন জোর করে বাসা থেকে বের হই, তখন সমস্যাটা আরও বেড়ে যায় এবং কিছু দূর গিয়ে আবার ফিরে আসতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
ফেনী।

পরামর্শ
তুমি এত বছর ধরে সমস্যাটি নিয়ে কষ্ট পাচ্ছ, অথচ এর জন্য কোনো মানসিক চিকিৎসা গ্রহণ করনি। ডাক্তাররা যখন এটির পেছনে মানসিক কারণ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন, এটার জন্য কোনো প্র্যাকটিসিং মনোবিজ্ঞানীর কাছে যাওয়া খুব প্রয়োজন ছিল। যাই হোক, দেরি করে হলেও সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে তুমি চিঠির মাধ্যমে আমাকে সমস্যাটি জানিয়েছ এর জন্য তোমার প্রশংসা প্রাপ্য। ব্যাপারটি যে মনের ভয় থেকে হচ্ছে, সেটি খুব পরিষ্কার। তোমার বাসার বাইরে যাওয়ার ভাবনা এবং আতঙ্ক—এই দুটো জিনিস একটি সংযোগ তৈরি করে ফেলেছে। ইংরেজিতে এটিকে বলা হয় কন্ডিশনিং। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মনোবিজ্ঞানী সাইকোথেরাপির বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে এ দুটোকে আলাদা করতে বা বাইরে যাওয়ার সঙ্গে আতঙ্কের অনুভূতির তীব্রতা কমিয়ে আনতে সাহায্য করবেন। তোমার তীব্র আতঙ্ক পাকস্থলীতে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে, এটিও তখন আর এভাবে ঘটবে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে যেহেতু এটি ঘটছে, তোমাকে হয়তো বেশ কয়েকটি সেশন নিতে হবে। তুমি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রি বিভাগে, ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে, ১/১৪ ইকবাল রোডের কিয়াতে গিয়ে অবিলম্বে সাইকোথেরাপিস্ট বা মনোবিজ্ঞানীর সাহায্য নাও। এ ছাড়া তুমি আপাতত প্রতিদিন একটি সময়ে চোখ বন্ধ করে নিজেকে মনে মনে বাইরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করে তারপর কয়েকবার বড় নিঃশ্বাস নিয়ে আস্তে আস্তে ছেড়ে দিয়ে রিলাক্স করতে থাকো। আশা করি নিয়মিত চিকিৎসা নিলে তুমি দ্রুত সেরে উঠবে। শুভ কামনা রইল।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, মার্চ ১২, ২০১১

4 thoughts on “মনের জানালা – মার্চ ১২, ২০১১

  1. hello i’m married, 30 years old,i am a positiv person but my family members are negativ and they dont listen to me, puts pressures on me, i have anxiety and depression for 12 years, its mainly fear, cant control my thinking, i cant liv with them especially my dad, i hav insomnia too, cant relax, i hav seen phychiatrist, hypnotherapist but it didnt work, what can i do in this situation? can you help me? i dont hav any friends. i only want to hear about the things that interests me. negative talking effects me.i dont like loud or sudden noises, can you help me at all.

    From australia

  2. আমার মন্তব্যে আমার সমস্যা হল:
    আপনারা যে এসব ছাপাচ্ছেন এবং অনেক মানুষ নিয়মিত চিঠি পাঠাচ্ছে__
    তা পড়ে তো আমরা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি!!
    চিঠিতে যা পড়ছি তা সম্পূর্ণ সত্যি বলে ধরে নিয়ে সমাজের প্রতি একটা ঘৃণা সৃষ্টি হচ্ছে আমাদের!!!
    কিন্তু, বাস্তবে দেখা যায় বিষয়টা বিস্তীর্ণ; অনেক কিছু জানার থাকে, অনেক কিছু দেখার থাকে__
    এভাবে আমাদের সাথে প্রতারণা হচ্ছে কেন?

    1. চোখ কান খোলা রাখলে আশেপাশে এরকম ঘটনা দেখতে পাবেন। দেশে এসব কেউ কাউরে মন খুলে বলতে পারে না। তাই গোপনে এভাবে বলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *