প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১

প্রশ্নঃ- আমার স্বামীর হাইপারটেনশন রয়েছে। ডাক্তার বলেন এটি শারীরিক মিলন জীবন কোনো প্রভাব ফেলবে না। ব্যাপারটি সঠিক কিনা জানতে চাই।

উত্তরঃ- কি ধরনের ওষুধ আপনার স্বামী খাচ্ছে সেটি একটি ব্যাপার। হাইপারটেনশনের সাথে যদিও শারীরিক মিলনের কোনো সম্পর্ক নেই তবুও অনেক ক্ষেত্রে এই জাতীয় সমস্যা শারীরিক মিলন জীবনকে নিস্তেজ করে ফেলতে পারে।

প্রশ্নঃ- আমি শারীরিক মিলন ফ্যান্টাসি পছন্দ করি। আমি প্রায়ই ফ্যান্টাসিতে কল্পনা করি আমার বীর্যে আমার স্ত্রীর পুরো শরীর ভিজে গেছে বিশেষ করে তার মুখ। এটা স্বাভাবিক।

উত্তরঃ- শারীরিক মিলন ফ্যান্টাসির মন্দ কোনো দিক নেই। যেহেতু আপনার শারীরিক মিলন সম্পর্ক আছে। অনেকেই ফ্যান্টাসিকে অপ্রীতিকর চোখে দেখে অথচ বিজ্ঞান একে নির্দোষ বলে আসছে সবসময়ই। কল্পনাশক্তি প্রবল না হলে শারীরিক মিলন ফ্যান্টাসির জন্য মানসিক অস্থিরতা বেড়ে যেতে পারে মনে রাখবেন।

প্রশ্নঃ- শারীরিক মিলন ফ্যান্টাসি কি।

উত্তরঃ- শারীরিক মিলনের পূর্বে পরে কিংবা শারীরিক মিলনকালে মনের ভেতর এক ধরনের শারীরিক মিলন আবেগ কাজ করে। এটিই হলো শারীরিক মিলন ফ্যান্টাসি।

প্রশ্নঃ- আমি একজন পুরুষ। শারীরিক মিলন সম্পর্কের ব্যাপারে আমি বরাবরই উদাসীন ছিলাম। ইদানীং আমার এক পুরুষ বন্ধুর প্রতি আমি দুর্বল হয়ে পড়েছি। তার সাথে শারীরিক মিলন শারীরিক মিলন করার ইচ্ছা ব্যপারটি কি।

উত্তরঃ- আপনি ডাক্তারি বিজ্ঞানের ভাষায় হোমাশারীরিক মিলনুয়াল বা সমকামী। এটি পুরুষের ব্যক্তিত্বকে ধ্বংস করে দেয়। আপনার উচিত এই অভ্যাস ত্যাগ করা। জানি না আপনি কোন ধর্মের। তবে ইসলাম ধর্মে সমকামিতা জঘণ্য পাপ।

প্রশ্নঃ- আমি মানসিক সমস্যায় ভুগছি। যেমন আমি আমার সৎ বোনের প্রতি শারীরিক মিলনকর্ষণ বোধ করি। সে দেখতে সুন্দর এবং শারীরিক মিলনকর্ষণীয়। কিন্তু আমি আমার ইচ্ছা তাকে প্রকাশ করতে পারছি না। আমি জানি না সে এটা কিভাবে গ্রহন করবে। আমি কি সুস্থ?

উত্তরঃ- আপনার নিজেকেই আপনি জিজ্ঞাসা করুন আপনি সুস্থ কি না। আপনিতো প্রায় সবই বুঝতে পারছেন। এটি যে একটি মানসিক সমস্যা তাও বুঝতে পারছেন। তাহলে সমস্যাটা হলো আপনার শারীরিক মিলন অনুভূতিকে বশে রাখা। কেননা আমাদের সমাজ,ধর্ম পারিপার্শ্বিকতা, পরিবারের কোনো সদস্যের সাথে শারীরিক মিলন সম্পর্ককে সমর্থন করে না। ধর্মের দিক থেকে এটি পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কাজেই সতর্ক হোন। কোনো মানসিক ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

প্রশ্নঃ- অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরন কি আমাকে বেশি ব্যক্তিত্ববান করে তুলতে পারে?

উত্তরঃ- ব্যক্তিত্ব পুরোটাই মনোদৈহিক ব্যাপার। আপনি যেটির কথা বলেছেন সেটা টেস্টোস্টেরন মূলত শারীরিক মিলন হরমোন। এর প্রভাবে শারীরিক মিলন ইচ্ছা বা শারীরিক মিলন তৃষ্ণা বেড়ে যায়। অতিরিক্ত পরিমাণে শারীরিক মিলন ভাবনা বা শারীরিক মিলনের ইচ্ছা থাকলেই কেবলমাত্র ব্যক্তিত্ববান হওয়া যায় না। ব্যাপারটি স্মরণ রাখবেন।

প্রশ্নঃ- নারীদের বীর্যপাত হয় কি?

উত্তরঃ- নারীদের জননাঙ্গতে শারীরিক মিলনকালে যে তরল ক্ষরিত হয় তাই হলো নারীদের বীর্য। অন্ততপক্ষে বিজ্ঞানীরা তাই ধারণা করেন। আমার মনে হয় নারীদের পুরুষের অনরূপ বীর্যপাত হয় না কিন্তু এক ধরনের তরল তাদের জননাঙ্গতে এসে জমা হয়। ডাক্তারি পরিভাষায় যাকে বলে মিউকাস।

প্রশ্নঃ- আমার স্ত্রী পাতলা, ডটেড কমডম পছন্দ করে। প্রোটেকশন ছাড়া শারীরিক মিলনে সে অস্বস্তিবোধ করে ব্যাপারটি কি?

উত্তরঃ- প্রোটেকশন পরে শারীরিক মিলন সবচেয়ে ভালো । এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং বিকল্প সমস্যা নেই। প্রোটেকশন ছাড়া শারীরিক মিলনে অস্বস্তিবোধের জন্য আপনারা দেখতে হবে আপনার স্ত্রীর কোনো প্রকার শারীরিক সমস্যা আছে কি না। চেষ্টা করুন এবং তাকে সহযোগিতা করুন। আমার মনে হয় তার অস্বস্তিবোধ কমে যেতে পারে। অন্যথায় অভিজ্ঞ গাইনোকলজিস্টের পরামর্শ নিন।

প্রশ্নঃ- যমজ সন্তান হবার পর শারীরিক মিলন চালানো ক্ষতিকর কি?

উত্তরঃ- কেন, শারীরিক মিলন তার স্বাভাবিক নিয়মেই চলতে পারে। যমজ সন্তান হবার জন্য শারীরিক মিলনে সমস্যা হবার বিন্দুমাত্র কারণ নেই ।

প্রশ্নঃ- আমার স্ত্রী পায়ু শারীরিক মিলন পছন্দ করে । কিন্তু আমি এটা পছন্দ করি না। আপনি কি আমাকে জানাতে পাবেন কিভাবে শারীরিক মিলন নিরাপদ হতে পারে।

উত্তরঃ- প্রথম প্রশ্নের উত্তরে আপনাকে জানাই পায়ু যদি আপনার স্ত্রী পছন্দ করে তবে আপনার সমস্যা হবার তো কোনো কথা নয়। শুধু একটু সতর্ক থাকবেন । আর কিভাবে শারীরিক মিলন নিরাপদ তা তো আপনাদের ভালো জানার কথা। কয়েকটি টিপস দেয়া হলো এগুলো মনে রাখুন এবং রপ্ত করুন্

* পিচ্ছিল পদার্থ বেশি ব্যবহার করুন। লুব্রিকেটেড কমডম ব্যবহার আদর্শ

* প্রোটেকশন সবসময়ই ব্যবহার করুন।

* জননাঙ্গতে লিঙ্গ যাতায়াত খুবই ধীরে ধীরে।

* সবচেয়ে লিঙ্গ সুখকর আসনটি বেছে নিন।

* শারীরিক মিলনের পর ভালো ভাবে গোপনাঙ্গ ধুয়ে ফেলুন।

প্রশ্নঃ- পায়ু শারীরিক মিলন কতটা হিতকর।

উত্তরঃ- অনেক পুরুষের কাছেই এটা আনন্দজনক। তবে এর কিছু সমস্যা আছে। অনেক সময় পায়ু পথে এতে ইনফেকশন হতে পারে। তবে সমকামী পুরুষদের জন্য এই সমস্যা খুব একটা তাদের চিন্তিত করে তোলে না। তবে স্ত্রীর সাথে শারীরিক মিলনে সতর্ক হওয়া উচিত কেন না এতে আপনার স্ত্রী পায়ুতে ব্যথা পেতে পারে।

প্রশ্নঃ- আমি আমার স্ত্রীর কিছু নগ্ন ছবি তুলেছি যা মাঝে মধ্যেই দেখে উত্তেজিত হই। আমার স্ত্রী ব্যাপারটি পছন্দ করে না। আদতেও কোনো সমস্যা আছে কি?

উত্তরঃ- ঘরের স্ত্রীর নগ্ন ছবি তোলার মানে আমার কাছে পরিস্কার নয়। এটি এক ধরনের অসুস্থতা। আমার মনে হয় আপনার উচিত এই অভ্যাস ত্যাগ করা। কেননা আপনার স্ত্রী এটা পছন্দ করে না।

প্রশ্নঃ- আমি শারীরিক মিলনের পূর্বে নানা রকম ক্রীড়া পছন্দ করি। অথচ আমার সঙ্গিনী এটি চায় না। ব্যাপারটি কতটা সঙ্গত?

উত্তরঃ- আপনাদের পারস্পারিক সৌহার্দ্য কতটুকু রয়েছে তা জানতে পারলে ভালো হতো। শারীরিক মিলনক্রীড়া সবসময়ই কার্যকর অধিক শারীরিক মিলনানন্দেন জন্য । মনে রাখুন যে, শারীরিক মিলন সঙ্গিনীর ইচ্ছারও একটা ভূমিকা রয়েছে। আপনার সঙ্গিনীকে বোঝাতে চেষ্টা করুন যে, ব্যাপারটি কতটা আনন্দজনক।

প্রশ্নঃ- একবার বীর্যপাতে কি পরিমাণ তরল বীর্য বের হয়?

উত্তরঃ- এ সম্বন্ধে নানা ব্যাখ্যা পড়ে থাকলেও জেনে রাখুন ১ টেবিল চামচ পরিমাণ বীর্য প্রতিবার শারীরিক মিলনে বের হয়। অধিকাংশ তরলই প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড থেকে বের হয়। তবে শারীরিক কোনো সমস্যার জন্য তরলের পরিমাণ কমবেশি হতে পারে।

প্রশ্নঃ- জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য লিঙ্গ বের করে আনা কতটুকু কার্যকর?

উত্তরঃ- এটাতে সবাই অভ্যস্ত হতে পারে না। কেননা শারীরিক মিলনের শেষ ধাপ হলো এটি। এটি খুবই কষ্টদায়ক ব্যাপার । তবে যদি আপনি সক্ষম হন জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য এটি সবচেয়ে আদর্শ পদ্ধতি।

প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২

প্রশ্নঃ- শারীরিক মিলনে আমরা স্ত্রী ইদানীং ভাইব্রেটর পছন্দ করছেন। এটি কি স্বাভাবিক।

উত্তরঃ- ব্যাপারটি স্বাভাবিক নয়। ভাইব্রেটর নির্ভরশীলতা স্ত্রীকে কোনো এক সময় শারীরিক মিলন শীতল করে তুলতে পারে। আমার মনে হয় এটি পরবর্তীতে চূড়ান্ত শারীরিক মিলন সমস্যায় ফেলবে আপনাদের দু জনকেই। বরং আপনার স্ত্রীকে বলুন স্বাভাবিক শারীরিক মিলনকে পছন্দ করতে।

প্রশ্নঃ- আমার স্ত্রী অত্যন্ত রক্ষণশীল। অথচ শারীরিক মিলনকালে সে মাত্রাতিরিক্ত বন্য হয়ে ওঠে। ব্যাপাটি কি স্বাভাবিক।

উত্তরঃ- প্রশ্নটি অত্যন্ত মজার। অনেকেই শারীরিক মিলনকালে অত্যধিক বন্য হয়ে ওঠে। এটা দোষণীয় নয়। তবে আপনার ভাষ্যমতে মাত্রাতিরিক্ত, বন্যতার স্বরূপ জানলে পরামর্শ দিতে সুবিধা হতো। তবু আমার মনে হয় খুব একটা অস্বাভাবিকতা আপনাদের মাঝে নেই। আর হ্যাঁ, আপনি যদি স্ত্রীর এই বন্যতা পছন্দ করেন তাহলে তো কোনো সমস্যা হবার কথা নয়। উপভোগ করুন, শারীরিক মিলন পুরোপুরি উপভোগের বিষয়।

প্রশ্নঃ- আমি শারীরিক মিলনে উৎসাহী হতে চাই। ব্যাপারটি ভালোমতে আমাকে জানাবেন কি।

উত্তরঃ- শারীরিক মিলন শুরু করলেই এতে উৎসাহ আসবে শুধুমাত্র উৎসাহ নিয়ে বসে থাকলে চলবে কেন। আমার মনে হয় আপনি স্বাভাবিক আছেন। কাজেই সুস্থ শারীরিক মিলনয় মনোনিবেশ করুন।

প্রশ্নঃ- পুরুষের টেস্টোস্টেরনের সঠিক মাত্রা কি?

উত্তরঃ- আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। জানা থাকা উচিত টেস্টোস্টেরন অবশ্যই এক পুরুষ থেকে অন্য পুরুষের তারতম্য ঘটে। অর্থাৎ এর মাত্রা বিভিন্ন সময়ে পুরুষের ক্ষেত্রে কমবেশি হতে পারে। স্বাভাবিক পরিমাণ হলো ২৫০ থেকে ১২০০ মনোগ্রামএক ডেসিলিটার। এই পরিমাণ হলো টেস্টোস্টেরন থাকলেই পুরুষ শারীরিক মিলনে স্বাচ্ছন্দ্য পেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই হরমোন কমে গেলে শরীরে নানা উপসর্গ দেখা দেয় এবং শারীরিক মিলন সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তবে পুরুষের পুরুষত্বহীনতার জন্য টেস্টোস্টেরনের মাত্রার হেরফের পুরোপুরি দায়ী নয়।

প্রশ্নঃ-আমি আমার ছোট অন্ডথলি নিয়ে শষ্কিত। আমি কি বাবা হতে পারবো।

উত্তরঃ- এটা প্রায়শই দেখা যায় যে, পুরুষ তাদের শারীরিক মিলন অঞ্চলের আকার নিয়ে সমস্যায় ভোগেন এবং দুশ্চিন্তা করেন। অনেক সময় এটা শারীরিক মিলনের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অন্ডকোষগুলোর কাজ কিন্তু ঠিকই হচ্ছে বলে আমার মনে হয়। কাজেই আকার এক্ষেত্রে কোনো বিষয় নয়। আমার আরো মনে হচ্ছে শারীরিক মিলনেও আপনি এবং আপনার স্ত্রী সন্তুষ্ট। তাহলে বাবা হবার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবার কিছু নেই।

প্রশ্নঃ- প্রায় সবসময়ই দেখা যায় যে আমি এবং আমার স্বামী একই সাথে শারীরিক মিলনয় কাতর হই না। এতে করে আমাদের শারীরিক মিলন কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে আমার মনে হয়। আপনার পরামর্শ চাই।

উত্তরঃ- শারীরিক মিলনে দু জনেরই ইচ্ছা বা সম্মতির একটা ব্যাপার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে মনে রাখবেন শারীরিক মিলনয় আপনাদের যে কোনো একজনের ইচ্ছা না থাকলেও শারীরিক মিলন শুরু হলে শরীর এবং মন এমনিতেই চাঙ্গা হয়ে যাবার কথা। আরো জেনে রাখুন শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে শারীরিক মিলনের ইচ্ছা নারী এবং পুরুষের একই সাথে উজ্জীবিত এবং আবেদমিত হয় না। আর আপনার প্রশ্ন মতে আপনাদের শারীরিক মিলনের সমস্যা বলতে কি বুঝিয়েছেন তা জানা গেল না। প্রশ্নের স্বচ্ছতা না থাকলে উত্তর দেয়া মুশকিল হয়ে পড়ে।

প্রশ্নঃ- শারীরিক মিলন সংক্রামক রোগ কি নানা সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সাথে দেহমিলনের জন্য হতে পারে।

উত্তরঃ- শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে উত্তর হবে হ্যাঁ। এইডস বা শারীরিক মিলন সংক্রামক রোগ বিস্তারের জন্য শারীরিক মিলনসঙ্গী বদল খুবই মারাতœক প্রভাব ফেলে। ডাক্তারী বিজ্ঞানে এই বিষয়কে কখনোই সমর্থন করে না। শুধু এইডস নয় আরো নানা শারীরিক মিলন সমস্যা দেখা দিতে পারে এজন্য

প্রশ্নঃ- শারীরিক মিলন সংক্রামক রোগরে ব্যাপারে কি কি সর্তকতা জরুর?

উত্তরঃ- নিরাপদ শারীরিক মিলন সর্ম্পক স্থাপন প্রথম কথা এবং সবসময়ই মনে রাখবনে প্রোটেকশন সবচয়েে আর্দশ।

প্রশ্নঃ- শারীরিক মিলন সংক্রামক রোগের ব্যাপারে কি কি সতর্কতা জরুরি-

উত্তরঃ- নিরাপদ শারীরিক মিলন সম্পর্ক স্থাপন প্রথম কথা এবং সবসময়ই মনে রাখবেন প্রোটেকশন সবচেয়ে আদর্শ।

প্রশ্নঃ- আমার স্ত্রী প্রায়ই অভিযোগ করে সে চরমপুলকে পোঁছাতে পারে না। আমি প্রোটেকশন ব্যবহার করি। এতে কোনো সমস্যা হচ্ছে?

উত্তরঃ- যদি আপনার স্ত্রী প্রোটেকশনের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ থাকে তবে সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু আমি মনে করি, চরমপুলকের জন্য প্রোটেকশনের কোনো ভূমিকা নেই । তবে অন্য জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা যদি আপনারা নিয়ে থাকেন এবং আপনার স্ত্রী যদি প্রোটেকশন পছন্দ না করে, তবে সেটা বিবেচিত হতে পারে। অন্য কোনো সমস্যা থাকলে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন।

প্রশ্নঃ- আমার প্রেমিকার সাথে আমি শারীরিক মিলন সম্পর্ক স্থাপন করতে চাই কিন্তু সে তাতে রাজি নয় কি করবো।

উত্তরঃ- আমার মনে হয় পাস্পরিক সৌহার্দ্যতা থাকলে শারীরিক মিলন সম্পর্ক স্থাপনে কোনো সমস্যা আছে বলে মনে হয় না। আপনি আপনারা প্রেমিকাকে বোঝাতে চেষ্টা করুন যদি আপনাদের সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়ায় তবে শারীরিক মিলনে অর্থাৎ নিরাপদ শারীরিক মিলনে কোনো সমস্যা নেই।

প্রশ্নঃ- অকাল বীর্যপাত ও উত্থান সমস্যা কি একই অসুখ।

উত্তরঃ- এই বিষয়ে বহুবার আলোচনা করা হয়েছে যে, অকাল বীর্যপাত এবং উত্থান সম্পর্কযুক্ত কোনো বিষয় নয়। অকাল বীর্যপাতের ফলে পুরুষের শারীরিক মিলন উত্তেজনা কমে যায় এবং উত্থান সমস্যার জন্য পুরুষ পুরুষত্বহীন হয়ে পড়ে। কাজেই এই দুই সমস্যা দুই কারণে হয়ে থাকে।

প্রশ্নঃ- আমি শারীরিক মিলনপুলক সম্বন্ধে জানতে চাই,

উত্তরঃ- শারীরিক মিলন মানেই কিন্তু শারীরিক মিলনপুলক নয়। এ ধারণা অবশ্য অনেকেরই। শারীরিক মিলনপুলক হলো শারীরিক মিলন চলাকালীন শেষ পর্যায়। এই পর্যায়ে এসে নারী এবং পুরুষ চূড়ান্ত শারীরিক মিলনতৃপ্তি লাভ করে। একে চরমপুলকও বলে। পুরুষের চেয়ে নারীর চরমপুলক দেরীতে আসে এবং বেশি স্থায়ী হয়।

প্রশ্নঃ- আমি এবং আমার স্ত্রী তুখোড় শারীরিক মিলন অনুভব করে। আমরা শারীরিক মিলন জীবনে সুখী। আমরা আরো অনেক শারীরিক মিলন আসন সম্পর্কে জানতে চাই। আপনি এই ব্যাপারে সাহায্য করবেন কি।

উত্তরঃ- শুনে ভালো লাগলো যে আপনারা শারীরিক মিলন জীবনে সফল। বিভিন্ন প্রকার বই এক্ষেত্রে আপনাদের সাহায্য করতে পারে। মূলত আপনি জানতে চেয়েছেন বিভিন্ন আসন স¤পর্কে। আপনাকে অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ ফিরোজ লিখিত শারীরিক মিলন গাইড সিরিজের বইগুলো পড়ে দেখার পরামর্শ দেয়া যাচ্ছে। এতে আপনার সমূহ উপকার হবে। এছাড়াও নানা বিদেশী শারীরিক মিলন সহায়ক বই পড়ে দেখতে পারেন।

প্রশ্নঃ- আমার স্বামী সেনাবাহিনীতে কর্মরত আছেন। গত তিন মাসযাবত আমরা সন্তান নেবার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমার স্বামী ছুটি পান না বলে গত একমাস যাবত আমরা শারীরিক মিলন ঘটাতে পারছি না তাহলে কিভাবে আমি গর্ভবতী হতে পারবো।

উত্তরঃ- এরকম প্রশ্ন আমি প্রায়ই শুনি যে স্বামীর অনুপস্থিতির দরুন গর্ভাবস্থা সৃষ্টিতে সমস্যা। এটা খুবই নৈতিক কারণ। এমনতো নয় যে আপনার স্বামী সমস্যা ছুটি পাবেন না। পরের বার যখনই আপনার স্বামী আপনার কাছে ফিরে আসবে তখনই চেষ্টা করুন গর্ভবতী হবার।

প্রশ্নঃ- আমার বয়স ৩২ বছর। আমি আমার স্বামীকে খুব ভালোবাসি। গত কিছুদিন যাবত লক্ষ্য করছি শারীরিক মিলনে আমি খুব ব্যথা অনুভব করি। এটা কি আমার কোনো সমস্যা নাকি আমার স্বামীর। নাকি আমাদের উভয়েরই শারীেিক সমস্যা। দয়া করে জানাবেন।

উত্তরঃ- শারীরিক মিলনে অনেক সময় অনেক কারণে ব্যথা হতে পারে। তবে এটি কার সমস্যা তা পরীক্ষা না করে বলা সম্ভব নয়। আপনি বরং আপনার স্বামীকে নিয়ে অভিজ্ঞ কোনো ইউরোজিস্টের শরণাপন্ন হোন।

প্রশ্নঃ- নারীর চরমপুলক কি পুরুষের চেয়ে বেশি দিন স্থায়ী থাকে।

উত্তরঃ- মূলত নারীর শারীরিক মিলন অনুভূতি পুরুষের চেয়ে বেশিদিন থাকে। সেই করণে চরমপুলকও থাকে বেশি সময়। পাশ্চাত্যের সাম্প্রতিক গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে নারীর চরমপুলক পুরুষের চেয়ে অন্তত বছর পাঁচেক বেশি স্থায়ী হয়।

প্রশ্নঃ- ওরাল শারীরিক মিলন.এইচআইভির ঝুকি কতটুকু রাখে।

উত্তরঃ- শুধুমাত্র নিজের স্ত্রী ছাড়া অন্য কারো সাথে ওরাল শারীরিক মিলনে এইচআইভির ঝুঁকি থাকে অনেক বেশি। মনে রাখবেন ওরাল শারীরিক মিলন খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠে যদি তা নিজের স্ত্রীর সাথে শুধু না হয়ে থাকে। নতুবা এইডস-এ আক্রান্ত হবার সম্ভবনা থাকে অনেক বেশি।

প্রশ্নঃ-আমার স্বামী ইদানীং আমার খোলা মুখে চুমু দিতে চান না। ব্যাপারটি কি।

উত্তরঃ- শারীরিক মিলনই বলুন বা ভালোবাসা সবক্ষেত্রেই চুমুর ভূমিকা মুখ্য। আপনার স্বামীর বোধহয় পরিচ্ছন্নতা ফোবিয়া হয়েছে। তার ধারণা খোলামুখে চুমু দিলে আপনার মুখের জীবাণু তার মুখে চলে আসতে পারে। বিষয়টি প্ররোটাই তার মানসিক কারণ। বুঝিয়ে বলতে পারলে বোধহয় কাজ হতে পারে। এর চেয়ে বেশি পরামর্শ আর কি হতে পারে।

প্রশ্নঃ- আমার স্বামী ওরাল শারীরিক মিলন পছন্দ করে না। অথচ আমি তাকে ওরাল শারীরিক মিলনের আনন্দ দেই। সে আমাকে দিতে চায় না কি করতে পারি বলুন।

উত্তরঃ- আপনি যে আপনার স্বামীর কাছ থেকে ওরাল শারীরিক মিলন পেতে আগ্রহী এটা কি আপনার স্বামী জানে। তাকে ব্যাপারটি ভালোভাবে বোঝাতে চেষ্টা করুন। স্বামীর সাথে এই ব্যাপার নিয়ে কলহের কিছু নেই। আস্তে আস্তে তাকে বুঝিয়ে বলুন যে ওরাল শারীরিক মিলন কতটা আনন্দায়ক। আমার ধারণা এতেই কাজ হবে।

প্রশ্নঃ- আমার শারীরিক মিলনের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। যখনই কোনো নারীর সাথে শারীরিক মিলনের কথা চিন্তা করি এবং কোনো নারীর সাথে সাক্ষাত করি তৎক্ষণাৎ আমার ভেতর লাজুকতা এবং নার্ভাসনেস কাজ করে এটাকে কিভাবে কাটিয়ে উঠতে পারবো।

উত্তরঃ- আপনার সমস্যাটি খুবই সাধারন। এতে ঘাবড়াবার কিছু নেই। মনে রাখবেন সুস্থ মানসিকতাই শারীরিক মিলন শক্তির বা ইচ্ছার মূল মন্ত্র। চেষ্টা করুন সফল হবেন।

প্রশ্নঃ- নারী কিভাবে তার চরমপুলক জানতে পারে।

উত্তরঃ- নারীর ক্ষেত্রে চরমপুলক খুব ধীরে ধীরে আসে। এটা হয়তো জানেন যে পুরুষের চেয়ে নারীর শারীরিক মিলনাকাক্সক্ষা তীব্র এবং তাদের চরমপুলকের স্থায়িত্বও বেশি। বিভিন্ন পশ্চাত্যের গবেষকরা এখনো এই ব্যাপারে নানা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জেনে রাখা ভালো নারী তার শারীরিক মিলনের শেষ ধাপে চরমপুলক সম্বন্ধে জানতে পারে।

প্রশ্নঃ- ডিপ্রেশনের জন্যই হোক বা অন্য কোনো কারণে হোক আমার স্বামীর শারীরিক মিলনাক্সক্ষা আগের চেয়ে কমে গেছে। দয়া করে পরামর্শ দিন।

উত্তরঃ- ডিপ্রেশন খুবই মারান্তক একটি কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। শারীরিক মিলনের জন্য আমার পরামর্শ হলো ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন এবং ডিপ্রেশন ও শারীরিক মিলনাকাক্সক্ষার চিকিৎসা করান

প্রশ্নঃ- গত কিছুদিন যাবত আমার স্ত্রীর সাথে আমার মানসিক দূরত্ব বেড়ে গেছে। সেই সাথে শারীরিক দূরত্বও বেড়েছে। আপনি কি কোনো পরামর্শ দিতে পারেন।

উত্তরঃ- ভালোবাসা তৈরিতে সহনশীল হতে হয়। আপনি আপনার স্ত্রীর প্রতি যত্মবান আছেন কি না সেটাও একটা বিষয়। শুধুমাত্র স্ত্রীর প্রতি অভিযোগ করবেন না। নিজের দোষ ক্রটি খুঁজে দেখুন । মাঝে মাঝে মানসিক ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং বেশি বেশি বই পড়–ন মনে রাখবেন স্ত্রীর সাথে সহমর্মিতা এবং সহযোগিতা আপনাকে অধিক আনন্দ দিতে পারে।

প্রশ্নঃ- কি করে স্ত্রীকে বেশি উত্তেজিত করা যায়।

উত্তরঃ- এরকম প্রশ্নের উত্তর নানা সময়ে নানাভাবে দেয়া হয়েছে। সেগুলো পড়ে জেনে নিন।

প্রশ্নঃ- আমার শারীরিক মিলন ইচ্ছা বাড়ানোর জন্য কি করতে পারি।

উত্তরঃ- অল্পতেই দুশ্চিন্তা আমাদের দেশের রোগীদের একটা স্বভাব। আপনি কি করে বুঝলেন আপনার শারীরিক মিলন ইচ্ছা কম। স্ত্রীর সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন। শারীরিক মিলন সাহিত্য এবং নগ্নছবি দেখুন। তবে অবশ্যই একা নয় স্ত্রীকে সাথে নিয়ে দেখুন। এতে করে উত্তেজনা বাড়বে। সমস্যার শুরুতেই ওষুধ খেতে চাইবেন না। এটি স্বাস্থ্যের পক্ষে হিতকর নয়। চেষ্টা করুন সুখী হন।