সারা রাত এপাশ-ওপাশ। ঘুম আসে না। কখনো ঘুম এলেও তা গভীর হয় না। অনিদ্রার সমস্যাটি অনেকেরই রয়েছে। এ সমস্যার আরেক নাম ইনসোমনিয়া। চমৎকার ঘুমের জন্য স্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার। জেনে নিন সেগুলো:
: প্রতিদিন একই সময় ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময় জেগে ওঠার অভ্যাস করতে হবে। এটা একটা জৈবিক ঘড়ির মতো কাজ করে। এমনকি ছুটির দিনেও যেন এই অভ্যাসের ব্যত্যয় না হয়।
: রাতে যাঁদের সহজে ঘুম আসে না, তাঁদের দিনে ঘুমানো একেবারেই উচিত নয়।
: শোবার ঘরটি স্বস্তিকর ও আরামদায়ক হতে হবে। ঘুমানোর সময় ঘর থাকবে যথেষ্ট অন্ধকার, শান্ত ও নীরব। না বেশি গরম, না বেশি ঠান্ডা।
: কেবল বিশ্রাম ও ঘুমানোর কাজেই শয়নকক্ষের ব্যবহার সীমিত রাখতে হবে। এ ঘরে কোনো টেলিভিশন বা কম্পিউটার না থাকাই স্বাস্থ্যকর।
: ঘুমাতে যাওয়ার আগে আগে ব্যায়াম না করাই ভালো, এতে যে উদ্দীপনা হবে, তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। ব্যায়াম শেষ করতে হবে ঘুমের তিন-চার ঘণ্টা আগে।
: দিনের শেষ ভাগে বা সন্ধ্যার পর চা-কফি, চকলেট ইত্যাদি পরিহার করুন। ধূমপান ও মদ্যপানও বর্জনীয়। এগুলো নিস্তরঙ্গ ঘুমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।
: রাতে হালকা খাওয়ার অভ্যাস করুন। নৈশভোজ শেষ করতে হবে ঘুমাতে যাওয়ার তিন-চার ঘণ্টা আগে। শোবার আগে এক গ্লাস দুধ বা একটি কলা কিংবা ক্র্যাকারস খেয়ে নিলে ঘুম আরও ভালো হবে।
: ভালো ঘুমের জন্য একটু শিথিলায়ন, একটি আনন্দদায়ক বই, গান বা একটা চমৎকার উষ্ণ স্নান বা গোসল দারুণ কাজে দেবে।
: আট ঘণ্টার ঘুমই যথেষ্ট। একটানা এই ঘুম আপনাকে সতেজ করে তুলবে। শিশুরা ঘুমাবে আরও বেশি।
: ঘুম আসছে না? বিছানায় এপাশ-ওপাশ না করে বরং উঠে পড়ুন। একটা বই পড়ুন বা দেহ-মন শিথিল হয়—এমন কিছু করুন। ঘুম পেলে তবেই বিছানায় যাবেন।

অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
২৮ নভেম্বর ২০১৫
বিভাগীয় প্রধান, ল্যাবরেটরি সার্ভিস, বারডেম হাসপাতাল
সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো