নবজাতকের টিকা নিয়ে দুশ্চিন্তা নয়

যথাযথ সময়ে নবজাতকের বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া নিয়ে মা-বাবা অনেক সময় দুশ্চিন্তায় পড়েন। কখন কোন টিকা, একসঙ্গে এতগুলো টিকা দেওয়া ঠিক কি না, শিশু অসুস্থ থাকা অবস্থায় টিকা দেওয়া যায় কি না, কোনো কারণে তারিখ পেরিয়ে গেলে কী করতে হবে—এসব বিষয় নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন।

 শিশুর জন্মের এক বছরের মধ্যে আবশ্যক টিকাগুলোর সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করতে হবে। এগুলো হচ্ছে বিসিজি (যক্ষ্মা), ডিপিটি (ডিপথেরিয়া-হুপিংকাশি-ধনুষ্টঙ্কার), পোলিও, হেপাটাইটিস বি ও হামের টিকা। এ ছাড়া রয়েছে নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, বসন্ত ও অন্য কিছু টিকা, যা বাধ্যতামূলক নয়।
 একই টিকার দুটি ডোজের মধ্যে কমপক্ষে ২৮ দিনের বিরতি থাকা উচিত।
 একই দিনে একাধিক টিকা দেওয়াতে কোনো সমস্যা নেই।
 কোনো কারণে তারিখ পার হয়ে গেলে পোলিও, ডিপিটি, হেপাটাইটিস বি তারিখের অনেক পরে এমনকি এক বছর পরে দিতেও সমস্যা নেই।
 পোলিও টিকা মুখে খেতে হয় বলে ডায়রিয়া থাকলে শিডিউলের ডোজ খাওয়ানোর পর ২৮ দিন বিরতিতে একটি অতিরিক্ত ডোজ খাওয়ানো হয়।
 বিসিজি টিকা দেওয়ার এক মাসের মধ্যে টিকার স্থানে ঘা হওয়ার কথা।
 সাধারণত ডিপিটি বাম ঊরুতে ও হেপাটাইটিস ডান ঊরুতে দেওয়া হয়।
 নয় মাস বয়সের আগে হামের মতো র‌্যাশ হয়ে থাকলেও যথাসময়ে মানে নয় মাস পূর্ণ হলেই হামের টিকা দেবেন।
 ছোটখাটো অসুস্থতা যেমন: জ্বর, বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি কারণে টিকাদান স্থগিত করার কারণ নেই। মারাত্মক অসুস্থ শিশু, খিঁচুনি হচ্ছে এমন শিশু এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল যেমন: কেমোথেরাপি গ্রহণকারী বা এইচআইভি আক্রান্ত শিশুকে টিকা না দেওয়াই উচিত। যেসব শিশুর স্নায়ুরোগ আছে, তাদের ডিপিটি না দিয়ে ডিটি দেওয়াই ভালো।

ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী
শিশু বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, আগস্ট ০৭, ২০১৩

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *