প্রতিদিন তুমি ৫০-১০০টা চুল হারাচ্ছো। তা ঝরে গিয়ে তোমার সোয়েটারে লেগে থাকছে কখনো বা মুখে।
সাধারণ নিয়মে এ চুল যখনই পড়ে যায়, সে স্থানে নতুন চুল গজায়। কিন্তু যদি এমন হয় যে পড়ে যাওয়া চুলের স্থানে নতুন চুল উৎপন্ন হচ্ছে না কিংবা যত বেশি পরিমাণে চুল ঝরছে, তত আর নতুন করে গজিয়ে উঠছে না, তখন টাক হতে চলে—যেভাবে বড়দের কপাল চুলহীন হয়ে আস্তে আস্তে বিস্তৃত হতে থাকে। তবে বাচ্চা বয়সেও যদি এমন ঘটে তার নাম এলোপেসিয়া।

চুলকাহিনি
চুল নখের মতো ক্যারোটিন নামক প্রোটিনে তৈরি। এটা ফলিকেলস নামক চামড়ার নিচে ছোট্ট গর্ত থেকে গজায়। এ ফলিকেলে চুলের মূল রোপিত থাকে, যা জীবন্ত এবং বৃদ্ধি পায়। যা চুল বলা হয় তা হলো কাণ্ড, যা মৃত তাই চুল কাটার সময় ব্যথা পাওয়া যায় না। চুল মাসে প্রায় দুই সেন্টিমিটারের মতো বাড়ে।
এভাবে তোমার মাথায় প্রতি শয়ে ৮৫টি চুল বাড়ছে। পরে যখন আর বাড়ে না তখন বিশ্রামে যায় ও ঝরে পড়ে। একেক সময় তোমার মাথার চুলের প্রতি শয়ে ১৫টা এভাবে বিশ্রাম পর্বে থাকে।

কেন চুল পড়ে
 বয়স্ক হলে। এনড্রোজেন হরমোনঘটিত। পরিবারে এভাবে বাহিত হতে পারে। কপাল চওড়া হতে থাকে। বাচ্চাদের এটা হয় না।
 বাচ্চা বয়সে চুল হারানোর ঝুঁকি হবে—কেমিক্যালসের (চুলে ডাই) ব্যবহার ব্লিস, পার্ন। হেয়ার ড্রাইংয়ের ব্যবহার—বেশি গরম হওয়ায় চুল পড়ে যায়।
 শাওয়ারের পানি যেখানে প্রতিদিন বেশি লাগে। জ্বর, মানসিক চাপ, সার্জারি।
 ফানগ্যাস (রিং ওয়ার্ম) সংক্রমণ।
 এলোপেসিয়া এরিয়াটা-ফ্যামিলিগত। শরীরের ইমিউন সিস্টেম চুল ফলিকেলসের বিরুদ্ধে কাজ করে।
 নিজের চুল নিজে টেনে মুচড়ে আঘাত করার কুঅভ্যাস। মনোরোগ।
 থাইরয়েড হরমোনের অভাবজনিত সমস্যা। সুষম পুষ্টির অভাব।
 ক্যানসার রোগের চিকিৎসায় ব্যবহূত কেমোথেরাপি ও র‌্যাডিয়েশনের প্রতিক্রিয়াজাত।

চিকিৎসকের করণীয়
 চিকিৎসকের পরামর্শ বাঞ্ছনীয়। রিং ওয়ার্মজনিত কারণে ওষুধ প্রয়োগ।
 টাক পড়া অবস্থা হয়ে থাকলে তা মেনে নেওয়ার প্রবণতা গড়ে তোলা।

প্রণব কুমার চৌধুরী
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, এপ্রিল ২৫, ২০১২