প্রশ্ন: বারবার মাথা ন্যাড়া করলে শিশুদের চুল কি ঘন হয়ে ওঠে?উত্তর: এই ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি খুব একটা নেই। তবে জন্মের পর একবার মাথা ন্যাড়া করা হলে চুলের ফলিকল একের জায়গায় একাধিক হয় এবং সঠিক দিকে বেড়ে ওঠার নির্দেশনা পায়। এতে হয়তো খানিকটা উপকার হয়। কিন্তু ছোটবেলায় বারবার চুল ফেলে দেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে চুল ঘন হয় বা সুন্দর হয়—এই ধারণা ঠিক নয়। তবে চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় ফাটা আগা মাঝেমধ্যে ছাঁটা উচিত।

প্রশ্ন: শিশুদের নাক বন্ধে নাকের ড্রপ ব্যবহারে কি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?

উত্তর: কিছু কিছু নাকের ড্রপ আছে যা দীর্ঘদিন ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে স্যালাইন নাকের ড্রপ ব্যবহারে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এটি সাধারণ স্যালাইন দিয়ে তৈরি বলে দীর্ঘদিন ব্যবহারে কোনো সমস্যা দেখা দেয় না। এটি এক ফোঁটা করে দুই নাসাছিদ্রে দিনে তিন-চারবার ব্যবহারে সাধারণত নাক বন্ধ ভালো হয়ে যায়। তবে দীর্ঘদিন নাক বন্ধ থাকলে বা ভালো না হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রশ্ন: মাড়সহ ভাতে কি পুষ্টি বেশি থাকে?

উত্তর: মাড় ফেলে দেওয়া ভাতের তুলনায় মাড়সুদ্ধ বা বসা ভাতে ক্যালরির পরিমাণ অবশ্যই বেশি থাকে। এতে শর্করা, থায়ামিন ইত্যাদি বেশি পরিমাণে রয়ে যায়। সে কারণে গ্রামাঞ্চলে অপুষ্টি ঠেকাতে আগে বসা ভাত খাওয়ার প্রচলন ছিল। কিন্তু স্থূলতা বা ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির এ ধরনের ভাত না খাওয়াই ভালো।

প্রশ্ন: রাতের খাবার খেয়েই বা অল্প সময় পরই ঘুমানো কি স্বাস্থ্যকর?

উত্তর: খেয়েই সঙ্গে সঙ্গে ঘুমানো সেটা দুপুর কিংবা রাত হোক, কখনোই স্বাস্থ্যকর নয়। খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে না শুয়ে ১৫-২০ মিনিট বসে থাকা বা হাঁটাহাঁটি করা উচিত। রাতে ঘুমানোর প্রায় দুই ঘণ্টা আগে খাবার খাওয়া উচিত। আরও ভালো হয় মাঝরাত বা দেরি করে খাবার না খেয়ে আগেই খাবার খাওয়া। এতে রাতের খাবার হজম ভালো হয় ও হজমশক্তিও ভালো থাকে।

প্রশ্ন: জরায়ুতে টিউমার হলে কি সন্তান ধারণে কোনো সমস্যা হতে পারে?

উত্তর: হ্যাঁ, জরায়ু টিউমারের জন্য সন্তান ধারণে সমস্যা বা বারবার গর্ভপাত বা বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। ৩০-৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে জরায়ু টিউমারের জন্য বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। টিউমারের কারণে জরায়ু অতিরিক্ত বড় হয়ে গেলে, ভেতরে কোনো কারণে ভ্রূণ ঠিকমতো বেড়ে উঠতে পারে না, জরায়ু ও ফেলোপিয়ান টিউবের সংযোগস্থলে বা এমন জায়গায় টিউমারটির অবস্থান হয়, যা ভ্রূণকে সুস্থিত হতে বাধা দেয়। এসব ক্ষেত্রে বারবার গর্ভপাত ঘটে বা বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সন্তান নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রশ্ন: উচ্চ রক্তচাপ কি বেশি বয়সের অসুখ, অর্থাৎ শুধু বয়স্ক ব্যক্তিরাই কি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হন?

উত্তর: ধারণাটি মোটেই সঠিক নয়। যেকোনো বয়সের নর-নারীই জীবনের যেকোনো সময়ে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে বিভিন্ন কারণে চল্লিশোর্ধ্ব বয়সের নর-নারীর উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। যেমন: অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, অতিরিক্ত ওজন, গর্ভকালীন সময়ে, কিডনি সমস্যায় ইত্যাদি ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত এবং সতর্ক থাকা উচিত।

প্রশ্ন: কর্মজীবী মায়েরা শিশুর জন্য বুকের দুধ বাড়িতে রেখে গেলে তা কতক্ষণ পর্যন্ত খাওয়ানো যাবে?

উত্তর: কর্মজীবী মায়েরা বাইরে যাওয়ার সময় শিশুর জন্য বুকের দুধ নিঃসৃত করে ঢাকনা দেওয়া পরিষ্কার বাটিতে রেখে যেতে পারেন। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আট ঘণ্টা পর্যন্ত এটি ভালো থাকবে ও বাটি চামচ ব্যবহার করে শিশুকে খাওয়ানো যাবে। কোনো অবস্থায়ই ফিডার বোতল ব্যবহার করা যাবে না। রেফ্রিজারেটরে রাখলে চব্বিশ ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো রাখা যায়, তবে অবশ্যই খাওয়ানোর বেশ আগে বের করে নিতে হবে।

প্রশ্ন: উঁচু-নিচু দাঁত ঠিক করার জন্য ব্রেস লাগানোর সঠিক বয়স কোনটি?

উত্তর: এটি নির্ভর করে শিশুদের দাঁতের অবস্থানের ওপর। যদি ওপরের পাটির দাঁতের অবস্থান মুখ বন্ধ করলে নিচের পাটির সামনের দাঁতের বাইরে না হয়ে ভেতরের দিকে থাকে, তবে আট-নয় বছর বয়সেই ব্রেস লাগানো শুরু করা প্রয়োজন। কখনো হাড়ের বৃদ্ধিজনিত সমস্যায় দাঁত বেরিয়ে থাকে বা উঁচু হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সাত-আট বছর বয়সে এক্সট্রা ওরাল ট্রাকশন লাগানো প্রয়োজন হয়।
তবে শুধু দাঁতের ক্রাউডিং বা উঁচু-নিচু থাকলে ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ব্রেসের কাজ শুরু করা উচিত, বিশেষ করে আক্কেল দাঁত ওঠার অনেক আগেই।

প্রশ্ন: স্তন্যপানরত শিশুদেরও কি ঠান্ডা-কাশিতে মধু, লেবু বা তুলসী পাতার রস খাওয়ানো যাবে?

উত্তর: শিশুদের কাশি প্রশমনের জন্য দু-এক ফোঁটা মধু বা লেবুর রস বা তুলসী পাতার রস বুকের দুধের সঙ্গে খাওয়ানো যেতে পারে। এতে কোনো ক্ষতি নেই, বরং শিশু খানিকটা আরাম পেতে পারে। তবে বাসক পাতার রসে তেমন উপকার হয় না এবং এর তিতকুটে স্বাদে শিশু বিরক্ত হতে পারে। এ ছাড়া বুকের দুধ দেওয়ার ১৫ মিনিট আগে শিশুর বন্ধ নাক লবণমিশ্রিত পানি দিয়ে পরিষ্কার করে দিতে হবে, যাতে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শ্বাস বন্ধ না হয়ে যায়।

প্রশ্ন: সাদা রুটি ও বাদামি রুটির মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: সাদা রুটি বা পাউরুটি ময়দা দিয়ে তৈরি। ময়দায় আঁশের পরিমাণ কম, এর গ্লাইসেমিক সূচকও বেশি। সাধারণ পাউরুটি তৈরিতে সাধারণত ময়দার সঙ্গে চিনি বা চর্বি যেমন, ডালডাও ব্যবহূত হয়। গ্লাইসেমিক সূচকের দিক দিয়ে সাদা পাউরুটি আর সহজ শর্করার মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। ডায়াবেটিস ও ওজনাধিক্য রোগীদের জন্য নিয়মিত এটি গ্রহণ করা তাই অনুচিত। রুটি যদি খেতে হয়, তবে হাতে বেলা আটার রুটি, সম্ভব হলে লাল আটার রুটি খাওয়া উচিত। আর কিনে খেতে চাইলে বাদামি রুটি বা ব্রাউন ব্রেড, যা চিনি ছাড়া ও উচ্চ আঁশযুক্ত—সেটা খাওয়াই ভালো।

প্রশ্ন: অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়ার সঙ্গে কি মানসিক রোগের সম্পর্ক থাকতে পারে?

উত্তর: অতিরিক্ত ও মাত্রাহীন খাদ্য গ্রহণের কারণ কোনো জটিল মানসিক রোগ হওয়া অসম্ভব নয়। কেননা বাইপোলার মুড ডিজঅর্ডারে রোগী বেশি খেতে চায়। অনেক সময় বিষণ্নতায় আক্রান্ত রোগীরাও খেয়ে ফেলে বেশি। এ ছাড়া কিছু খাদ্য গ্রহণজনিত আচরণগত সমস্যা আছে, যা রোগীকে অতিরিক্ত খেতে বাধ্য করে। কেবল রোগ নয়, মানসিক রোগের কারণে যেসব ওষুধ দেওয়া হয়, তার কোনোটির প্রতিক্রিয়ায়ও রোগী বেশি খেতে পারে। কারও মাত্রাতিরিক্ত খেয়ে ফেলার অভ্যাস ও অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মানসিক কাউন্সেলিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রশ্ন: উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কি প্রতিদিন রক্তচাপ মাপতে হবে?

উত্তর: না, প্রতিদিন রক্তচাপ মাপার প্রয়োজন নেই। রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকলে প্রথম দিকে এক দিন পরপর, পরে সপ্তাহে এক দিন এবং পরবর্তী সময়ে দুই সপ্তাহে একবার বা মাসে একবার রক্তচাপ মাপা উচিত। আর উচ্চ রক্তচাপ কখনোই সেরে যাবে না, তবে একে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নিয়ন্ত্রিত হওয়ার পর নিয়মিত এক মাস বা দুই মাস পরপর রক্তচাপ মেপে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ সেবন করা উচিত।

প্রশ্ন: শিশুদের প্যারাসিটামল মুখে খাবার সিরাপ ও পায়ুপথে ব্যবহারের সাপোজিটরির মধ্যে কার্যকারিতার পার্থক্য আছে কি?

উত্তর: নেই। দুটোই একই উপাদান, অর্থাৎ এসিটামিনোফেন দিয়ে তৈরি। কেবল দেহে প্রবেশের পথটি আলাদা। অনেকের ধারণা, সাপোজিটরি সিরাপের চেয়ে বেশি কার্যকর। জ্বর বেশি হলে সিরাপ না দিয়ে সাপোজিটরি দেওয়া উচিত। কিন্তু আসলে কার্যকারিতা বা নিরাপত্তার দিক দিয়ে সিরাপ বা সাপোজিটরি একই ধরনের। তবে কোনো শিশু যদি বারবার বমি করে ওষুধ ফেলে দেয় বা গিলতে না পারে, সে ক্ষেত্রে মুখে খাবার সিরাপের বদলে সাপোজিটরি ব্যবহারই শ্রেয়।

প্রশ্ন: শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কি জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়া যাবে?

উত্তর: জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলে বুকের দুধের পরিমাণ কমে যেতে পারে, এ ছাড়া শিশুর ওপর অন্য কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। তাই প্রথম ছয় মাস যখন শুধু বুকের দুধ খাওয়াতে বলা হয়, সে সময় বড়ি না খেয়ে অন্য কোনো পদ্ধতি, যেমন প্রোটেকশন ব্যবহার করা যায়। ছয় মাস পর যখন অন্য খাবার শিশুকে দেওয়া হবে, তখন বড়ি শুরু করতে পারেন। তার পরও প্রথম থেকেই কেবল প্রজেস্টেরন আছে এমন মিনিপিল খেতে কোনো বাধা নেই।

প্রশ্ন: চোখের সমস্যার কারণে কি মাথা ব্যথা হতে পারে?

উত্তর: অনেক কারণেই মাথা ব্যথা হতে পারে। দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা থাকলে মানুষকে কষ্ট করে দেখতে হয় বলে চোখ ব্যথা হয়। সেখান থেকে মাথা ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে মাইনাস পাওয়ারের সমস্যায় দূরের জিনিস দেখতে ও প্লাস পাওয়ারের সমস্যায় কাছের জিনিস দেখতে বা পড়তে গেলে মাথা ব্যথা হতে পারে। শিশুদের বেলায় স্কুলের পর বা বাড়িতে পড়াশোনার পর চোখ ও মাথা ব্যথা করলে বা পাঁচ বছর বয়সের নিচে মাথা ব্যথা হলে অবশ্যই চোখ পরীক্ষা করানো উচিত।

প্রশ্ন: করলা, চিরতার রস, ঘৃতকুমারীর রস ইত্যাদি খেলে কি রক্তে শর্করা বা চর্বি কমে?

উত্তর: এ ধরনের সবজি বা লতাপাতার ভেষজ গুণের জন্য ডায়াবেটিক, উচ্চরক্তচাপ ও রক্তে চর্বির আধিক্য আছে, এমন রোগীরা প্রায়ই সেবন করে থাকেন। তবে এসব উপকার পেতে কতটুকু মাত্রায় বা কতবার খেতে হবে তার কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত নেই। অতিমাত্রায় কোনো ভেষজ উদ্ভিদের উপাদান যকৃত বা কিডনির জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। তাই কোনো কিছুই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। আর দশটা সবজি খাওয়ার মতো করে এগুলোও গ্রহণ করা যাবে, তবে ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের কোনো দিক নির্দেশনা এখনো নেই।

প্রশ্ন: শীতকালের রোদ ত্বকের জন্য ক্ষতিকর নয়—এই ধারণা কি ঠিক?

উত্তর: ধারণাটি ঠিক নয়। বরং গরমকালের রোদের চেয়ে শীতের রোদে ত্বকের ক্ষতির আশঙ্কা বরং বেশি। রোদের প্রখরতা কম থাকায় শীতের রোদে সবাই একটু বেশি সময় কাটায়। এতে সানবার্ন হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। আবার রোদের তীব্রতা কম থাকা এবং বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্প কম থাকার কারণে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি অনেকটা সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসে যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। সে ক্ষেত্রে শীতকালের নরম আরামদায়ক রোদেও বাইরে বের হলে সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করা উচিত।

প্রশ্ন: সাধারণ ব্যথা ও প্রসব বেদনার মধ্যে কীভাবে ফারাক করা যায়?

উত্তর: গর্ভাবস্থার শেষ দিকে প্রায়ই পেট শক্ত হয়ে কিছু পেটব্যথা হয়। এই ব্যথা কিছু বিশ্রাম নিলে বা ওষুধ খেলে কমেও যায়। কিন্তু প্রসব বেদনা পেছন দিক থেকে সামনে বা তলপেটে শুরু হয়ে একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর উঠতে থাকে। এর তীব্রতা কমে না বরং বাড়তেই থাকে আর দুই ব্যথার মধ্যবর্তী ফাঁকটুকুও কমতে থাকে। কোনো ওষুধে বা বিশ্রামে চলে যায় না। এমন হলে তবে বুঝতে হবে ব্যথা শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে পানি ভেঙে গেলে আর কোনো সন্দেহই থাকবে না।

প্রশ্ন: নবজাতক শিশুর দিন-রাতের ঘুমচক্র ঠিক হতে কত দিন সময় লাগে?

উত্তর: জন্মের পর শিশুরা সাধারণত দুই থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত দিনে গড়ে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা ঘুমায়। পাঁচ-ছয় মাস বয়স হওয়ার পর ঘুমের ছন্দে একটি পরিণত ভাব আসে। শিশুরা রাত জাগলে তাই ধৈর্য না হারিয়ে অপেক্ষা করুন। এমনিতে টানা চার ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকা পর্যন্ত শিশুকে জাগানো উচিত নয়। এর বেশি ঘুমালে হালকা সুড়সুড়ি দিয়ে জাগিয়ে বুকের দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। পেট ভরে গেলে সে আবারও নিবিড় ঘুমে তলিয়ে যাবে।

প্রশ্ন: রুটি ও নানরুটি খাওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি?

উত্তর: অবশ্যই আছে। বাড়িতে তৈরি রুটিতে আটা ও লবণ ছাড়া আর কিছুই নেই। আটায় আঁশ বা ফাইবারও বেশি। কিন্তু নানরুটি তৈরির সময় ময়দা, ঘি বা ডালডা, কলা ইত্যাদি মেশানো হয়। ময়দায় আঁশের পরিমাণও কম। তাই যাঁরা ওজন, শর্করা বা চর্বি কমাতে চান, তাঁদের জন্য হাতে বেলা রুটিই শ্রেয়।

প্রশ্ন: নবজাতকের জন্ডিস হলে কি বুকের দুধ খাওয়ানো যাবে?

উত্তর: নবজাতক বা শিশুদের জন্ডিস অনেক কারণেই হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে। কিন্তু কোনো অবস্থায়ই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো থেকে বিরত রাখা যাবে না। শিশুকে নিয়মিত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পর বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। বিশেষ করে নবজাতকের ফিজিওলজিক্যাল বা স্বাভাবিক জন্ডিসের মূল চিকিৎসাই হচ্ছে শিশুকে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত বুকের দুধ খাওয়ানো।

প্রশ্ন: মেয়েদের মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, এই ধারণা কি ঠিক?

উত্তর: মাসিক বন্ধ হওয়ার সঙ্গে মোটা হওয়ার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তবে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর হরমোনের মাত্রা কমে যায়। এ কারণে হূদেরাগের ঝুঁকি বাড়ে। তা ছাড়া এই বয়স, অর্থাৎ ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বি বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ে। তাই এ সময় খাদ্যনিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে সঠিক ওজন বজায় রাখা উচিত।  ডা. রোনা লায়লা, বারডেম হাসপাতাল।

প্রশ্ন: মাখন খাওয়া ভালো নয়, কিন্তু ভোজ্যতেলে তৈরি মার্জারিন তেমন ক্ষতিকর নয়— এই ধারণা কি ঠিক?

উত্তর: ভোজ্যতেলকে যখন বিশেষ রাসায়নিক উপায়ে জমাট করা হয়, তখন এটি ট্রান্স ফ্যাটে রূপান্তরিত হয়। এই ট্রান্স ফ্যাট রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল বাড়ায় বলে প্রমাণিত হয়েছে। মার্জারিন, কেক, পেস্ট্রি ও বেকারির খাবারে এই উপায়ে ভোজ্যতেল ব্যবহূত হয়। এটি রক্তে চর্বির পরিমাণ বাড়ায় এবং হূদেরাগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ইত্যাদির ঝুঁকি বাড়ায়। তাই মার্জারিন ক্ষতিকর নয় ভেবে বেশি খাওয়া যাবে না।

প্রশ্ন: বিদ্যালয়ে শাস্তি হিসেবে শিশুদের মারধর করলে কী কী সমস্যা হতে পারে?

উত্তর: প্রথমত বিদ্যালয়ে যেতে অনীহা, যাওয়ার সময় কান্নাকাটি, বিশেষ কোনো শিক্ষকের প্রতি ভয় (ফোবিয়া) হয়। কারও কারও কনভারশন
ডিসঅর্ডার (যেমন: হঠাৎ পেটব্যথা, বমি, খিঁচুনি ও অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থা) হতে পারে। আবার কেউ কেউ দীর্ঘমেয়াদি বিষণ্নতায় আক্রান্হতে পারে।

প্রশ্ন: পানি বেশি খেলে কিডনি ভালো থাকে—এই ধারণা কি ঠিক?

উত্তর: একজন মানুষের পানি কতটুকু খেতে হবে, তা নির্ভর করে তার কাজের ধরন, দেহের আকার, পরিবেশ, আবহাওয়া ইত্যাদির ওপর। আর পানির চাহিদা বোঝার জন্য মস্তিষ্কে আছে পিপাসাকেন্দ্র, যা ঠিক করে দেয় কখন কতটুকু পানি পান করতে হবে। তাই মস্তিষ্ক যতক্ষণ কাজ করছে, ততক্ষণ পানির অভাবে জটিলতা সৃষ্টির অবকাশ নেই। আর পানি বেশি খেলেই যে কিডনি ভালো রাখা সম্ভব, তাও পুরোপুরি ঠিক নয়; যদিও পর্যাপ্ত পানি পান মূত্রের ঘনত্ব স্বাভাবিক রাখে এবং সংক্রমণ রোধ করে। কিন্তু কিডনি খারাপ হওয়ার পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ কিংবা কিছু ইমিউন রোগ, যা পানি খেয়ে রোধ করা সম্ভব নয়।

প্রশ্ন: গর্ভবতী মায়েদের বাঁ দিকে কাত হয়ে শুতে বলা হয় কেন?

উত্তর: আমাদের পেটের ডান দিকে থাকে বৃহৎ শিরা ইনফিরিয়র ভেনাকাভা, যা শরীরের নিচের অংশ থেকে রক্ত হূৎপিণ্ডে চালান করে। গর্ভকালে ভারী পেট নিয়ে ডান দিকে কাত হয়ে শুয়ে থাকলে এই শিরার ওপর চাপ পড়ে ও রক্ত সংবহন ব্যাহত হয়। তারচেয়ে বাঁ দিকে কাত হয়ে শুয়ে থাকলে রক্ত সংবহন বাড়ে, ফলে শিশুর শরীরেও রক্ত বেশি সঞ্চালিত হতে পারে, তাছাড়া পায়ে পানি জমাটাও কমে। তাই পাঁচ মাসের পর থেকে মাকে অন্তত কয়েক ঘণ্টা বাঁ দিকে কাত হয়ে শুয়ে থাকতে বলা হয়।

প্রশ্ন: শীতে নিয়মিত মোজা পরলে পায়ে যে দুর্গন্ধ হয়, তা কীভাবে রোধ করা যায়?

উত্তর: শীতকালে সাধারণত মোজা ও বন্ধ জুতা বেশি পরা হয়। এ জন্য পায়ে বাতাস কম লাগে ও পায়ে দুর্গন্ধ হয়। এটি রোধ করতে প্রথমত, পা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পাশাপাশি মোজা নিয়মিত পরিবর্তন ও পরিষ্কার করতে হবে। এতে উপকার না পেলে প্রতিদিন এক গামলা পানিতে দু-তিনটি পটাশিয়ামের দানা দিয়ে হালকা বেগুনি রঙের দ্রবণ তৈরি করে এর মধ্যে ১৫ মিনিট হাত-পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন। তাহলে আর পায়ে দুর্গন্ধ থাকবে না।

প্রশ্ন: সন্তান ধারণের নয় মাস সময়ে স্বাভাবিক কতটুকু ওজন বৃদ্ধি পতে পারে?

উত্তর: স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের পুরো সময়ে গর্ভস্থ শিশু, বড় হয়ে যাওয়া জরায়ু, জরায়ুর পানি ইত্যাদি মিলে দেহের ওজন আগের চেয়ে ১০ থেকে ১২ কেজি বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। ১০ কেজির কম হলে বুঝতে হবে মা বা শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বা শিশু খুব ছোট। আবার ১৫ কেজির বেশি বেড়ে যাওয়াও অস্বাভাবিক। মাসে মাসে ওজন বৃদ্ধির হার লক্ষ করার মাধ্যমে বিষয়টা খেয়াল করা যায়।

প্রশ্ন: রুটি খেলে বেশি কোষ্ঠকাঠিন্য হয়—এই কথা কি ঠিক?

উত্তর : অনেকেই বলেন, ভাত খেলে কাষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হয় না কিন্তু রুটি খেলেই হয়। এই ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ভাত ও আটাতে একই উপাদান প্রায় একই পরিমাণে থাকে। আঁশ বা ফাইবার আটায় বিশেষ করে লাল আটায় বেশি এবং এটি বরং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেই সহায়ক। তবে রুটির সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ শাকসবজি ও পানি পান করা উচিত।

প্রশ্ন: জন্মের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নবজাতকের চুল ফেলে দেওয়া উচিত—এ ধারণা কি ঠিক?

উত্তর: মাতৃগর্ভে শিশু যে উষ্ণতায় থাকে, বাইরে তা পায় না ও পরিবেশের তাপমাত্রার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সময় লাগে। ত্বকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মাথার চুল দিয়ে ঢাকা থাকে ও তাপ সংরক্ষণ করে। কমপক্ষে দেড় মাসের আগে চুল না ফেলাই ভালো। এ চুল অপবিত্র—এমন ধারণাটি কুসংস্কারমাত্র। প্রয়োজনে স্বাভাবিক জন্মের তিন দিন পর এবং কম ওজনের কম সময়ে ভূমিষ্ঠ শিশুর এক মাস পর গোসল দিয়ে মাথার চুল পরিষ্কার করে দিতে হবে।

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো

No tags for this post.