মার্কিন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এমন এক বড়ি সেবনে সমর্থন করেছেন, যা স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি খেলে ঘাতকব্যাধি এইডসের জন্য দায়ী এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পারেন। এইচআইভি প্রতিরোধে কাজ পারে বলে যে বড়িটির কথা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তা ‘ট্রুভাডা’ বলে পরিচিত। বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত খবরে এ কথা জানা যায়।
যেসব ব্যক্তির এইচআইভির সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি মাত্রায় রয়েছে, তাদের প্রতিদিন এই বড়ি সেবনের বিষয়টি অনুমোদনে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেছে বিশেষজ্ঞদের একটি দল।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এই সুপারিশ যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে (এফডিএ) গ্রহণ করতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। তবে সচরাচর তারা এ ধরনের সুপারিশ গ্রহণ করে।
এইচআইভি নিয়ে কাজ করছে—এমন স্বাস্থ্যকর্মী ও সংস্থা এই ওষুধ অনুমোদনের বিরোধিতা করেছে। ট্রুভাডার অনুমোদনের বিরোধিতা করছে। সাংবাদিকেরা বলেছেন, বিশেষজ্ঞদের এই পদক্ষেপ এইডস/এইচআইভির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি মাইলফলক বলে প্রমাণিত হতে পারে। যাদের দেহে এইচআইভি ভাইরাস রয়েছে, তাদের জন্য অবশ্য ট্রুভাডা সেবন অনুমোদন করেছে এফডিএ। এর পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তি অন্য ওষুধও সেবন করছে।
২০১০ সালে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক গিলিড সায়েন্সেসের তৈরি করা ট্রুভাডা স্বাস্থ্যবান সমকামী পুরুষের এইচআইভি ঝুঁকি কমায়। একই সঙ্গে এইচআইভি নেগেটিভ বিষমকামী লোকদের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করে।
অ্যান্টি ভাইরাল ড্রাগস অ্যাডভাইজরি কমিটি, যারা ওষুধ অনুমোদনে এফডিএকে পরামর্শ দিয়ে থাকে, তারা ১৯-৩ ভোটে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণদের (সমকামী পুরুষদের) জন্য ট্রুভাডা সেবনে মত দিয়েছে। যারা এইচআইভি বহন করছে, তাদের সঙ্গীদের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চমাত্রার ঝুঁকি রোধেও একই বড়ি সেবনে মত দিয়েছে তারা।
এই বড়ি সেবনের বিরোধিতাও করছেন অনেকে। তাঁদের মতে, অনেকে টু্রভাডা সেবন করে নিরাপদে আছেন বলে ভুল ধারণা পোষণ করছেন। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, এই ওষুধ সেবনে বরং এইচআইভির ওষুধ প্রতিরোধী নতুন প্রজাতির আবির্ভাব ঘটতে পারে।
কারেন হফি নামের একজন সেবিকা বলেন, ‘ট্রুভাডা অবশ্যই প্রতিদিন খেতে হবে। এক দিনও যেন বাদ না যায়। তবে একজন নিবন্ধিত সেবিকা হিসেবে আমার আট বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, এভাবে প্রতিদিন সঠিকভাবে ওষুধ খাওয়া সম্ভব নয়।’
এইডস ভ্যাকসিন অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মিশেল ওয়ারেন বলেন, বিশ্বব্যাপী এইচআইভি প্রতিরোধ কার্যক্রমে স্বস্তি এনে দিয়েছে ট্রুভাডা। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রুভাদার বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, মে ১১, ২০১২