ভূমিকা
মাতৃদুগ্ধ পান এমন এক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যা শিশুর প্রথম বছরগুলোতে যথাযথ পুষ্টি জোগানোর মাধ্যমে সুস্বাস্থ্যসহ বাচ্চার বৃদ্ধি ও বিকাশে অবদান রাখে। সব মা-ই স্তন্যপান করাতে সক্ষম। পরিবার ও সমাজের ভেতর থেকে তার প্রতি পূর্ণ সহযোগিতা করলেই মা এতে শতভাগ সফল হন। শালদুধ যা কলোস্ট্রাম নামেও অভিহিত, হলুদাভ ঘনদুধ যা গর্ভাবস্থার শেষ দিকে স্তন থেকে নিঃসরিত হতে থাকে, বিজ্ঞানীদের মতে, এ হলো নবজাতক সন্তানের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ খাবার এবং ভূমিষ্ঠ হওয়ার প্রথম ঘণ্টার মধ্যে নবজাত শিশুকে তা পান করানো শুরু করা উচিত। শিশু তার ছয় মাস বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ পান করবে। অন্য আর কোনো খাবারের প্রয়োজন নেই।
আলগা পানিরও দরকার নেই। তারপর দুই বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় ধরে এই মাতৃদুগ্ধ পান চালিয়ে যাবে। তবে ছয় মাস বয়স হতে শিশুকে বুকের দুধের পাশাপাশি স্বাভাবিক পারিবারিক খাবার যেমন—খিচুড়ি খাওয়ানো শুরু করতে হবে।

মায়ের দুধের গুণাগুণ
মাতৃদুগ্ধের গুণাগুণ বলে শেষ করা যাবে না। বুকের দুধ পান মানবশিশুর জীবনের শ্রেষ্ঠ সূচনা। প্রিম্যাচিওর ও অসুস্থ নবজাতক সন্তানের জন্যও মায়ের দুধ প্রথম বিবেচ্য।
বুকের দুধ পান করে শিশু যেসব উপকার পেয়ে থাকে
 অ্যালার্জিতে ভোগে না শিশু।
 দিনেরাতে যেকোনো সময় শিশু চাইলে খেতে পারে।
 এর স্বাদ শিশুর পছন্দ।
 বুকের দুধে থাকা নানা রোগ প্রতিরোধক শক্তি ছোট্ট শিশুকে নানা ইনফেকশনস থেকে সুরক্ষা দেয়।
 শিশুর শরীর গঠনে প্রয়োজনীয় এমাইনো এসিড, প্রোটিন, সুগার ও চর্বি এমন সুসামঞ্জস্যভাবে বুকের দুধে আছে, যা শিশুর জন্য সুষম খাবার হিসেবে কাজ করে।
 শিশুর পাকস্থলী ও অন্ত্র বুকের দুধে থাকা ভিটামিন, এনজাইমস ও খনিজ পদার্থ পরিপূর্ণভাবে শোষণে সক্ষম।
 মায়ের দুধে থাকা বেশি মাত্রার কোলেস্টেরল শিশুর ব্রেইনের বিকাশে এবং নানা হরমোন ও ‘ডি’-ভিটামিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
 প্রসূতি মা যদি স্বাভাবিক পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবার খেতে পারেন, তবে সন্তান সবচেয়ে কম খরচে জোগানো শ্রেষ্ঠতম আদর্শ খাদ্য মায়ের দুধ পান করে বেঁচে থাকে, বড় হয়ে ওঠে।
 শুধু বুকের দুধ পান করছে, এমন শিশু টিকাদানসম্পর্কিত জ্বরে কম পড়ে, গবেষণায় এমন তথ্য মিলছে।
 বুকের দুধে নির্ভরশীল শিশু প্রথম বছরে তিন গুণ ওজন লাভ করে।

উপসংহার
মাতৃদুগ্ধ কথা অমৃত সমান
মহান বিজ্ঞানী ভনে শুনে পুণ্যবান।

প্রণব কুমার চৌধুরী
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, সহকারী অধ্যাপক, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জানুয়ারী ০৫, ২০১০

Share This
%d bloggers like this: