নতুন এক গবেষণায় এরকম ফলাফল পাওয়া গিয়েছে।

গবেষণার প্রধান, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অফ কানেক্টিকাট’য়ের গ্রেগরি পানজা বলেন, “অলস বসে থাকার চাইতে সামান্য শারীরিক কর্মকাণ্ড মঙ্গল বয়ে আনে। আশাকরি আমাদের এই গবেষণা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।”

তিনি আরও বলেন, “শারীরিকভাবে অলস ব্যক্তিদের জন্য আশার বিষয় যে, এই উন্নতির জন্য তাদের কঠিন কোনো ব্যায়াম করতে হবে না। বরং গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে হালকা শারীরিক কর্মকাণ্ডেই সুফল পাওয়া যায়।”

পরিশ্রমের মাত্রা পরিমাপ করা যাদের জন্য জরুরি, তাদের জন্য এই গবেষণার জেষ্ঠ্য গবেষক ও ‘কিনিসিওলাজি’ অর্থাৎ শারীরিক নড়াচড়া বিশেষজ্ঞ লিন্ডা পেসকাটেলো বলেন, “হালকা শারীরিক নড়াচড়ার উদাহরণ হতে পারে পার্কে বা শপিং সেন্টারে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরা। এক্ষেত্রে আপনি হাঁপিয়ে উঠবেন না, বাড়বে না হৃদস্পন্দন, ঘামবে না শরীর।”

“মাঝারি পরিশ্রমের শারীরিক কসরত হতে পারে ১৫ থেকে ২০ মিনিটে হেঁটে এক মাইল দূরত্ব অতিক্রম করা। এক্ষেত্রে আপনি কিছুটা হাঁপিয়ে উঠবেন, বাড়বে হৃদস্পন্দন এবং শরীরও ঘামবে। তবে এই অবস্থাতেও স্বাভাবিক আলাপচারিতা করার ক্ষমতা অক্ষুণ্ন থাকবে।”

“১৩ মিনিটে এক মাইল জগিং করাকে গণ্য হবে কঠোর শারীরিক পরিশ্রম হিসেবে। এক্ষেত্রে আপনি প্রচণ্ড হাঁপিয়ে উঠবেন এবং হৃদস্পন্দন এতটাই বাড়বে যে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে কষ্ট হবে। ঘামও হবে প্রচুর।”

এই গবেষণার জন্য মধ্যবয়সি স্বাস্থ্যবান ৪১৯ জনকে চার দিন ধরে নিতম্বে ‘অ্যাক্সিলেরোমিটার’ লাগানো অবস্থায় পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই যন্ত্র তাদের শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা পরিমাপ করে।

‘জার্নাল অফ হেলথ সাইকোলজি’-তে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যারা বেশি অলস সময় কাটিয়েছেন তাদের মানসিক উৎফুল্লতা ও শান্তির পরিমাণ কম।

অপরদিকে, অলস সময় কাটানোর পরেও যারা হালকা থেকে মৃদু শারীরিক পরিশ্রম করেছেন, তাদের সার্বিক ভালো থাকার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গেছে।

পানজা বলেন, “যত বেশি ততই ভালো- এই ধারণাটি শারীরিক পরিশ্রম ও ভালো থাকার ক্ষেত্রে পুরোপুরি সত্য নাও হতে পারে। বরং ধারণাটি হওয়া উচিত কিছুই না করার চাইতে সামান্য কিছু করাও ভালো।

সূত্র- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Share This
%d bloggers like this: