প্রশ্নোত্তর – ২০১৬ 

প্রশ্ন: শক্তি পেতে গ্লুকোজ শরবত খাওয়া কি ভালো?

উত্তর: খেলাধুলা বা পরিশ্রমের পর অনেকে তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়ার জন্য গ্লুকোজ শরবত বা মিষ্টিজাতীয় তরল পান করেন। সহজ শর্করা হিসেবে এটি তাৎক্ষণিকভাবে রক্তে গ্লুকোজের চাহিদা পূরণ করে বটে, কিন্তু সরাসরি বা সহজ শর্করা এমনিতে শরীরের জন্য ক্ষতিকর। খেলাধুলার পর খনিজ উপাদানসমৃদ্ধ পানীয় (যেমন ডাবের পানি, লেবু-লবণ-পানি) গ্রহণ করা ভালো।

প্রশ্ন: রক্তে লবণের মাত্রা কম-বেশি হলে কি কেউ জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে?

উত্তর: রক্তে লবণ, বিশেষত সোডিয়ামের মাত্রা কম-বেশি হলে তা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে রোগী উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলতে পারে, অসংলগ্ন আচরণ করতে পারে, খিঁচুনিতে আক্রান্ত হতে পারে, এমনকি অচেতন হয়ে পড়তে পারে।

প্রশ্ন: ঘাড়ে বা কোমরের পেছনে ব্যথা থাকলে কীভাবে ভ্রমণ করা উচিত?

উত্তর: রিকশা ও ভ্যানগাড়িতে চড়লে ঝাঁকুনি বেশি লাগে। অসমান রাস্তায়ও এই সমস্যা হয়। এমন পথ বা যানবাহন এড়িয়ে চলবেন। বাসে চড়লে সামনের সিটে বসতে হবে। গাড়ি চালালে ঘাড়ে কলার বা কোমরে বেল্ট পরে নেবেন।

প্রশ্ন: আয়রন ট্যাবলেট খেলে কি মলের রং কালো হয়?

উত্তর: আয়রন ট্যাবলেট খেলে মলের রং কালো হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যও হতে পারে। তবে পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণের ফলেও মলের রং কালো হতে পারে। এ ক্ষেত্রে মল পাতলা আলকাতরার মতো দেখায়।

প্রশ্ন: যাঁদের ঘাড়ে সমস্যা আছে তাঁদের কি গাড়ি বা বাইক চালানো নিষেধ?

উত্তর: হঠাৎ ব্রেক কষা, গতির আকস্মিক পরিবর্তন বা বাঁক, ঝাঁকুনি ইত্যাদি ঘাড়ব্যথার রোগীর সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এ ধরনের কার্যকলাপ কম করাই ভালো। বাসের সামনের সিটে ভ্রমণ করা উচিত তাঁদের।

প্রশ্ন: কী ধরনের খাবার খেলে হাড় ভালো থাকবে?

উত্তর: হাড় সুস্থ রাখার জন্য ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। দুধ, দই, দুগ্ধজাত খাবার, সবুজ পাতাওলা শাক, কাঁটাযুক্ত ছোট মাছ ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম আছে। আর ডিমের কুসুমে ভিটামিন ডি পাবেন।

প্রশ্ন: বারবার হাত দিয়ে চোখ কচলানো কি ভালো?

উত্তর: অনেকে কিছুক্ষণ পরপর চোখে হাত দেন, এমন অভ্যাস পরিত্যাগ করা উচিত। চোখে কিছু পড়েছে ভেবেও চোখ কচলানো ঠিক নয়; বরং এমন পরিস্থিতিতে পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে নেওয়া উচিত।

প্রশ্ন: বুকে ব্যথা হলে কী করতে হবে?

উত্তর: বুকে ব্যথার কারণ হৃদ্রোগ (হার্টের ব্যথা) মনে হলে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে যাওয়া উচিত। কেননা, হার্ট অ্যাটাকের কারণে ২৫ শতাংশ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়ার আগেই মারা যায়, ৪০ শতাংশ মারা যায় প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। হৃদ্রোগ জানা থাকলে বাড়িতে থাকতেই ৩০০ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিন ও তিনটি ক্লপিডোগ্রেল খাইয়ে নিয়ে হাসপাতালে যেতে পারেন।

প্রশ্ন: জন্ডিস হলে কি মাছ-মাংস খাওয়া নিষেধ?

উত্তর: জন্ডিস হলে কোনো খাবারেই নিষেধ নেই। তবে যকৃৎকে বিশ্রাম দিতে হলে অতিরিক্ত তেল-চর্বি বা মসলাযুক্ত খাবার না খাওয়াই ভালো। অনেক সময় জন্ডিস জটিল আকার ধারণ করলে প্রোটিনজাতীয় খাবার কম খেতে বলা হয়। তাই তখন উচ্চ আমিষযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হয়।

প্রশ্ন: হঠাৎ চোখ লাল কী কারণে হতে পারে?

উত্তর: বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যালার্জি, ভাইরাস সংক্রমণ ইত্যাদি কারণে চোখ লাল হয়। কখনো কনজাংটিভায় রক্তক্ষরণও হতে পারে। চোখ লালের সঙ্গে ব্যথা থাকলে সতর্ক হওয়া উচিত।

প্রশ্ন: জোড়া কলা খেলে কি যমজ শিশু হতে পারে?

উত্তর: গ্রামবাংলায় প্রচলিত এই ধারণা ভুল। জোড়া কলা খাওয়ার সঙ্গে যমজ শিশু জন্মের কোনো সম্পর্ক নেই। যদি কখনো মাতৃগর্ভে দুটি ডিম্বাণু একই সঙ্গে নিষিক্ত হয় বা একটি ডিম্বাণু পরে দুই ভাগ হয়ে যায়, তবে যমজ বাচ্চার জন্ম হতে পারে।

প্রশ্ন: শিশুদের চুল ধরে আঘাত করা কি বিপজ্জনক?

উত্তর: স্কুলে বা বাড়িতেও অনেক সময় দুষ্টুমি বা কান্নারত শিশুকে মাথার চুল ধরে ঝাঁকুনি দেওয়া হয়। এতে মস্তিষ্কের ভেতর রক্তপাত হতে পারে। খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, চোখের ভেতর রক্তপাত ইত্যাদি হতে পারে। এমনকি মৃত্যু হতে পারে বা স্নায়বিক রোগ হতে পারে।

প্রশ্ন: বুকে ব্যথা হলে কী করে বুঝবেন এটা হার্টের ব্যথা?

উত্তর: অনেক সময় সঠিকভাবে বোঝা খুব মুশকিল। তবে হার্টের ব্যথার কিছু বিশেষত্ব আছে। যেমন বুকের ঠিক মধ্যখানে চাপধরা ব্যথা হয়, ঘাড়, চোয়াল ও বাম বাহুতে ছড়িয়ে পড়ে, অস্থিরতা বাড়ে, ঘাম হয়, শ্বাসকষ্ট হতে পারে। ভীষণ অসুস্থ বোধ হয়, এমনকি মৃত্যুভয় হতে পারে।

প্রশ্ন: জুতা পরার পর পায়ের কড়া ব্যথা করলে কী করা উচিত?

উত্তর: পায়ের নিচে কড়া থাকলে জুতা পরার পর তার ওপর চাপ পড়ে এবং ব্যথা হয়। সবচেয়ে ভালো হয় বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো কড়ার চিকিৎসা করা। তবে সাময়িকভাবে জুতা পরার সময় কড়ার নিচে একটা পাতলা তুলার প্যাড ব্যবহার করতে পারেন।

প্রশ্ন: কর্মজীবী মায়েরা বাইরে যাওয়ার সময় বুকের দুধ রেখে গেলে তা কি ফিডারে খাওয়ানো যাবে?

উত্তর: মায়েরা সন্তানের জন্য বুকের দুধ রেখে গেলে তা ফিডারে দেওয়া যাবে না। বাটি-চামচ ব্যবহার করতে হবে।

প্রশ্ন: কীভাবে বুঝব শিশু কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছে কি না?

উত্তর: শিশু কোষ্ঠবদ্ধতায় ভুগছে কি না, তা নির্ভর করে মলের প্রকৃতির ওপর।মল কেমন শক্ত সেটিই গুরুত্বপূর্ণ, কতবার হলো তা নয়। যদিও ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের বেশির ভাগই দিনে ১ বা তারও বেশিবার মল ত্যাগ করে থাকে। আবার কেউ কেউ প্রতি ৩৬-৪৮ ঘণ্টায় মাত্র একবার মলত্যাগ করে।দুটোই স্বাভাবিক।

প্রশ্ন: শিশুদের টিভি বা কার্টুন দেখিয়ে খাওয়ানো কি ভালো?

উত্তর: টিভি বা কার্টুন দেখিয়ে খাওয়ানোর প্রবণতার কারণে শিশুদের খাবারের স্বাদ ঠিকমতো বুঝতে ও খাবারের প্রতি আগ্রহ জন্মাতে সমস্যা হয়। তা ছাড়া মনোযোগ অন্যত্র থাকার কারণে খাবারের সম্পূর্ণ পুষ্টি পেতেও সমস্যা হয়।

প্রশ্ন: হাতের তালু অতিরিক্ত ঘামে কেন?

উত্তর: শুধু হাতের তালু ঘেমে যাওয়া ও হাত ঠান্ডা হয়ে থাকা উদ্বেগ বা অতিরিক্ত টেনশনের কারণেই সাধারণত হয়ে থাকে। এ ছাড়া থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যায় হাতের তালু অতিরিক্ত ঘামে, তবে তা উষ্ণ থাকে।

প্রশ্ন: ফুসফুস ক্যানসারের ঝুঁকি কী কী?

উত্তর: অবশ্যই ধূমপান ও তামাকের ব্যবহার। এ ছাড়া বংশগত কারণ, কিছু ভাইরাস সংক্রমণ, মাইকোটক্সিন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যা, নানা ধরনের রাসায়নিক ও ভারী ধাতুর প্রভাব এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

প্রশ্ন: শিশুদের একটানা কতক্ষণ ডায়াপার পরিয়ে রাখা যায়?

উত্তর: যখনই মনে হবে ডায়াপার প্রস্রাব-পায়খানার কারণে ভিজে গেছে বা শিশু অস্বস্তি বোধ করছে, তখনই পাল্টে দিতে হবে। ভেজা ডায়াপার পরা থাকলে শিশুর শরীরে ফুসকুড়ি বা র্যা শ হতে পারে। তাই রাতে ডায়াপার পরিয়ে রাখলেও মাঝে মাঝে সেটার অবস্থা দেখতে হবে বা শিশু উসখুস করলে পাল্টে দিতে হবে।

প্রশ্ন: লেবু ও টকজাতীয় খাবার কি রক্ত পরিষ্কার করে?

উত্তর: রক্ত পরিষ্কার করা বলে কোনো বিজ্ঞানসম্মত ব্যাপার নেই। তবে বেশির ভাগ টক ফলমূলে ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘এ’ ইত্যাদি আছে। এগুলো শরীরের নানা রকম প্রদাহের বিপরীতে ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং অসুখ-বিসুখের ঝুঁকি কমায়।

শ্ন: হাঁপানি রোগ কি সম্পূর্ণ সেরে যেতে পারে?

উত্তর: বংশগত এবং পরিবেশজনিত কারণ মিলে হাঁপানি রোগ হয়। এটা সম্পূর্ণ সারানোর মতো কোনো চিকিৎসা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তবে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাহলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগী পুরোপুরি সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন।

প্রশ্ন: শোয়া থেকে উঠে বসলে মাথা ঘোরার কারণ কী?

উত্তর: সাধারণত শোয়া থেকে বসা বা বসা থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ানোর সময় আকস্মিক কারও রক্তচাপ কমে গেলে তৎক্ষণাৎ মাথা ঘুরে ওঠে। একে বলে পোসচারাল হাইপোটেনশন। নানা কারণে এই সমস্যা হতে পারে। শোয়া-বসা ও নানা ভঙ্গিতে রক্তচাপ মেপে সমস্যাটি শনাক্ত করা যায়।

প্রশ্ন: নবজাতক জন্মের কতক্ষণের মধ্যে প্রস্রাব-পায়খানা শুরু করে?

উত্তর: একটি সুস্থ নবজাতক বুকের দুধ খাওয়া শুরু করার পর জন্মের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মলত্যাগ করে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রস্রাব করে। এর ব্যত্যয় হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রশ্ন: শুধু সেদ্ধ শাকসবজি খাওয়া কি ভালো?

উত্তর: শাকসবজির মধ্যে কিছু ভিটামিন আছে, যা তেলে দ্রবণীয়। তাই শুধু পানিতে সেদ্ধ করা হলে ওই ভিটামিনগুলো না-ও পাওয়া যেতে পারে। যাঁরা ওজন কমাতে চান বা তেল কম খেতে চান, তাঁরা সবজি রান্নার সময় সামান্য আধা চামচ পরিমাণ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন।

প্রশ্ন: হৃদ্রোগীরা কি দুধ খেতে পারবেন?

উত্তর: হৃদ্রোগের জন্য দুধ খেতে কোনো নিষেধ নেই। দুধে যেটুকু চর্বি আছে, তার চেয়ে অনেক বেশি আছে উপকারী উপাদান, যেমন আমিষ, ক্যালসিয়াম, অন্যান্য ভিটামিন ও খনিজ। দুধ খাওয়া বন্ধ না করে বরং উচ্চ ক্যালরিযুক্ত ও ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার, যেমন কেক, পেস্ট্রি, বেক করা খাবার ও নানা ধরনের ফাস্টফুড এড়িয়ে চলা উচিত।

প্রশ্ন: আখের রস খেলে কি জন্ডিসে উপকার হয়?

উত্তর: জন্ডিস হলে সহজপাচ্য যেকোনো খাবারই খাওয়া যাবে। বিশেষ কোনো খাবারে জন্ডিস কমে না। জন্ডিসের সঙ্গে আখের রসের কোনো সম্পর্ক নেই; বরং রাস্তাঘাটে অনিরাপদ ও অপরিচ্ছন্ন উপায়ে যে আখের রস তৈরি ও বিক্রি হয়, তা জন্ডিসসহ অন্যান্য পানিবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রশ্ন: ডিম, দুধ, মাংস খেয়ে কি রক্তচাপ বাড়ানো যায়?

উত্তর: লবণ খেলে রক্তচাপ বাড়ে কিন্তু ডিম, দুধ বা মাংস খেলে যে রক্তচাপ বাড়বে, এমন কোনো কথা নেই। উচ্চ রক্তচাপের রোগীর ডিম, দুধ খেতে বারণ নেই। তবে রক্তে চর্বির আধিক্য থাকলে মাংস খেতে নিষেধ করা হয়।

প্রশ্ন: রক্তদান করতে চাইলে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে স্যালাইন বা লবণাক্ত খাবার খাওয়াটা কি জরুরি?

উত্তর: রক্তদান করার আগে স্যালাইন বা লবণাক্ত খাবার খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। যেদিন রক্তদান করবেন, সেদিন স্বাভাবিকের চেয়ে দু-তিন গ্লাস বেশি পানি পান করুন। অতিরিক্ত পরিমাণ এই পানিটুকু রক্তদানের আগেই পান করা ভালো।

প্রশ্ন: ডেঙ্গু জ্বর হলে প্রাথমিকভাবে রোগ নির্ণয়ের কোনো উপায় আছে কি?

উত্তর: বর্তমানে ডেঙ্গু এনএস ওয়ান এন্টিজেন পরীক্ষা জ্বর হওয়ার দ্বিতীয় দিন বা তারও আগে পজিটিভ হয় এবং দ্রুত ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত করা সম্ভব। তবে ডেঙ্গু জ্বরের জটিলতা বুঝতে হিমাটোক্রিট, প্লাটিলেট ইত্যাদি করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার চাইতে এ রোগে পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব বেশি।

প্রশ্ন: চোখ থেকে অবিরত পানি পড়ার সমস্যার সমাধান কী?

উত্তর: চোখের ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি বা অশ্রু গ্রন্থিতে ময়লা জমা বা নালিতে বাধা সৃষ্টি হওয়ার কারণে চোখ দিয়ে পানি পড়ার সমস্যা হয়। ছোট একটি অস্ত্রোপচারের সাহায্যে এর সমাধান সম্ভব।

প্রশ্ন: দুধ খাওয়ানোর পর শিশুর পেটের গ্যাস বের করার নিয়ম কী?

উত্তর: শিশু যখন বুকের দুধ গ্রহণ করে, তখন তার সঙ্গে কিছু না কিছু বাতাস গেলে। এই বাতাস যখন ওপরে ওঠে, তখন সঙ্গে সঙ্গে কিছু দুধও তুলে আনে। এটাকে বলা হয় দুধ তোলা। এটা অনেকে বমি বলে ভুল করে। ছয় মাস বয়সের আগে শিশুর এ রকম দিনে ১০-১২ বার পর্যন্ত দুধ উঠে আসা উপসর্গ দেখা যেতে পারে। তাতে তার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় না। শিশুকে বুকের দুধ পানকালীন, তার আগে ও পরে পিঠের দিকে আলতো চাপড় দিয়ে ঢেকুর তুলে এই বাতাস বের করে দেওয়া যায়।

প্রশ্ন: জন্ডিসের রোগীদের কি ডিম, দুধ বা মাংস খাওয়া নিষেধ?

উত্তর: জন্ডিস হলে কোনো খাবার খেতেই নিষেধ নেই। দুধ, ডিম, মাছ, মাংস বন্ধ করে দিলে আমিষের অভাব দেখা দেবে। স্বাভাবিক সব খাবারই খাওয়া যাবে।

প্রশ্ন: শিশুকে খাবার ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে খাওয়ানো কেন ভালো নয়?

উত্তর: শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে (১৮১তম জন্মদিন হতে) মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে ঘরে তৈরি পরিপূরক খাবার যেমন (খিচুড়ি) প্রথমে অল্প, পরে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়িয়ে খাওয়াতে হয়।
শিশুর জিব স্বাদবৈচিত্র্য চায়। চাল, ডাল, তেল, শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি খাবার প্রথমে চটকিয়ে বা আধা তরল করে (যা চামচে থেকে যায়, এমন পাতলা নয়, যাতে সহজে গড়িয়ে পড়ে যাবে) পরে আধা শক্ত শক্ত—এই নিয়মে তৈরি করা ভালো। খাবারের ঘনত্ব, দানাদার-অদানাদার, তার স্বাদ শিশুর খাওয়ার আগ্রহ বাড়ায়।

প্রশ্ন: বুকজ্বলা বা পেট ফাঁপলে ঠান্ডা কোমল পানীয় খেয়ে কি সাময়িক আরাম মেলে?

উত্তর: অনেকেই ভারী খাবারদাবার খেয়ে বা কোনো কারণে বুকজ্বলা বা পেটে অস্বস্তি হলে কোমল পানীয় পান করে আরাম পেতে চেষ্টা করেন। কিন্তু কোলাজাতীয় পানীয় খাদ্যনালির ভালবকে প্রসারিত করে এবং পাকস্থলীর অম্ল আরও ওপরের দিকে উঠে আসতে দেয়। এতে সমস্যা আরও বাড়ে। তাই এ ধরনের পানীয় এই সমস্যার কোনো সমাধান নয়।

প্রশ্ন: দীর্ঘদিন ধরে দিনে বেশ কয়েকবার কাদার মতো নরম পায়খানা হলে করণীয় কী?

উত্তর: জীবাণু সংক্রমণের কারণে এমনটা হতে পারে। অনেক সময় যকৃৎ বা পিত্তথলির সমস্যায় এমন হয়। চিকিৎসকের পরামর্শমতো নিয়মিত ওষুধ সেবন করুন। অনেক সময় দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা করতে হতে পারে।

প্রশ্ন: খাওয়ার পর শুয়ে থাকলে বা ঘুমালে অস্বস্তি হলে কী করা উচিত?

উত্তর: অতিরিক্ত ভরপেট খাওয়া যাবে না। অল্প অল্প করে কয়েক বারে খাবার খেতে পারেন। খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা পর শোবেন। শোয়ার সময় মাথার দিকটা একটু উঁচুতে রাখতে হবে, একটি অতিরিক্ত বালিশ ব্যবহার করতে পারেন। এরপরও সমস্যা অনুভব করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রশ্ন: শ্বাসকষ্টের রোগীরা কি রোজা পালন করতে পারবেন?

উত্তর: যাঁদের শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে আছে, তাঁদের রোজা পালন করতে বাধা নেই। তবে ঘন ঘন শ্বাস নিলে গলার মাংসপেশিতে টান পড়ে ও ক্লান্তি আসে। অনেক সময় শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এ রকম ক্ষেত্রে রোজা পালনের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।

প্রশ্ন: বুকে কফ বা কাশি জমলে তা বের করার উপায় কী?

উত্তর: বুকে কফ জমলে অবশ্যই প্রচুর পানি পান করতে হবে। গরম পানি, চা বা কফি পানে আরাম পাবেন। তুলসী চা, আদা চা, মধু মেশানো গ্রিন টি পানেও উপকার মিলবে। গরম পানির ভাপ নিতে পারেন। গরম পানিতে ভেজানো তোয়ালে বুকে লাগিয়ে রাখতে পারেন, তোয়ালে ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত এভাবে রাখুন।

প্রশ্ন: প্রায়ই শোবার পর কিংবা ঘুম থেকে ওঠার পর কাশি হলে করণীয় কী?

উত্তর: প্রায়ই শোবার পর কিংবা ঘুম থেকে ওঠার পর কাশি হওয়াটা হাঁপানির লক্ষণ হতে পারে। আবার কাশি বা শ্বাসকষ্টের দমকে রাতে শুতে না পারা হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণও হতে পারে। তাই এ রকম হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রশ্ন: বয়স্ক ব্যক্তির কণ্ঠস্বরে হঠাৎ পরিবর্তন কি খারাপ?

উত্তর: বয়সের কারণে কণ্ঠে স্বাভাবিক কিছু পরিবর্তন হতেই পারে। তবে কখনো স্বরযন্ত্রের রোগ, থাইরয়েডের সমস্যা এমনকি নানা ধরনের ক্যানসারের কারণেও হঠাৎ গলার আওয়াজ বদলে যেতে পারে। এটা দীর্ঘ সময়েও ঠিক না হলে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

প্রশ্ন: অল্পবয়স্কদেরও কি বাতের ব্যথা হতে পারে?

উত্তর: বাত বা আর্থ্রাইটিস নানা ধরনের হতে পারে। বিভিন্ন বয়সে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। কেবল বয়স্ক বা প্রবীণ ব্যক্তিদের যে বাত হয়, এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং কিছু কিছু বাতজাতীয় রোগ (যেমন জুভেনাইল আর্থ্রাইটিস, এসএলই ইত্যাদি) কম বয়সীদেরই হয়।

প্রশ্ন: কখনো মাথার এক পাশে আবার কখনো পুরো মাথায় ব্যথা হলে কী করা উচিত?

উত্তর: নানান কারণে এ রকম মাথাব্যথা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সব সময় প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধ সেবন করা ঠিক নয়। মাথাব্যথার কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। ব্যথার সঙ্গে অন্যান্য লক্ষণ থাকলে তা বিশেষ কোনো রোগের কারণেও হতে পারে।

প্রশ্ন: গরমে কী ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা উচিত?

উত্তর: ঝাল বা মসলাদার খাবার মানুষের শরীরে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন করে। কফি, অ্যালকোহলও তা-ই। লাল মাংস, চর্বিযুক্ত খাবার একই কারণে গরমের দিনে এড়িয়ে চলা ভালো, কেননা এগুলো পরিপাকে বেশি শক্তি ক্ষয় হয় এবং তাপও বেশি উৎপন্ন হয়। জলীয় অংশ বেশি—এমন শাকসবজি ও ফলমূলই এই সময়ে বেশি বেশি খাওয়া উচিত।

প্রশ্ন: চশমা ব্যবহারের পর পরবর্তী সময়ে কি দৃষ্টিশক্তি ঠিক হয়ে যেতে পারে?

উত্তর: দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় চশমা ব্যবহার করতে বলা হয়। তা না হলে চোখের ওপর চাপ পড়ে। কিন্তু চশমা পরতে পরতে দৃষ্টিশক্তি আবার স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং অল্প বয়সীদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চশমার পাওয়ার আরও বাড়তে পারে।

প্রশ্ন: প্রস্রাবে জ্বালা করা কি সব সময় সংক্রমণের লক্ষণ?

উত্তর: প্রস্রাবের সংক্রমণে প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা করে তা ঠিক। তবে সব সময় এর কারণ এটা নাও হতে পারে। যেমন এই গরমে পানিশূন্যতার জন্য প্রস্রাবের ঘনত্ব বেড়ে গেলেও জ্বালা করতে পারে। অনেক সময় কোনো অ্যালার্জি বা প্রতিক্রিয়ার কারণেও এমন হতে পারে। তাই শুধু প্রস্রাবে জ্বালা করলেই না বুঝে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া ঠিক নয়।

প্রশ্ন: বারবার আমাশয় থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কী?

উত্তর: পিচ্ছিল মলের সঙ্গে রক্ত গেলে তাকে আমাশয় বলা হয়। যদি মল নরম হয়, কিন্তু রক্তক্ষরণ হয় না—সেটা আমাশয় নয়, পাতলা পায়খানা। বারবার এমন হলে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনে পরিচ্ছন্নতা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিন। এরপরও সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে রক্ত গেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান, এ ক্ষেত্রে ওষুধ লাগবে।

প্রশ্ন: মৌসুম বদলের সময় হঠাৎ গলাব্যথার সমাধান কী?

উত্তর: অনেক কারণেই হঠাৎ গলাব্যথা হতে পারে। সাধারণত ঠান্ডা লাগলে অথবা টনসিল, শ্বাসনালি বা গলনালির প্রদাহ হলে গলাব্যথা হয়ে থাকে। গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গড়গড়া করতে পারেন। স্যুপ বা গরম চা পান করা যায়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রশ্ন: রুচি বাড়ানোর জন্য নানা ধরনের কবিরাজি বা হারবাল ওষুধ খাওয়া কি ঠিক?

উত্তর: খাদ্যাভ্যাস ও খাদ্যতালিকা অনুযায়ী রুচির পরিবর্তন হয়। ওষুধ কখনো রুচি বাড়াতে পারে না। এসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। দীর্ঘদিনের অরুচি হলে সেটা কোনো রোগের কারণে হতে পারে। দুই সপ্তাহের মধ্যে খাওয়ার রুচি ফিরে না এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রশ্ন: অল্প বয়সেই চুল পেকে যাওয়া কি কোনো রোগ? এর সমাধান কী?

উত্তর: কম বয়সে চুল পেকে যাওয়া কোনো রোগের লক্ষণ নয়। চুল পাকার সঙ্গে বয়সের তেমন সম্পর্ক নেই। চুলে পাক ধরতে শুরু করলে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এসব খাবার চুল পাকার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করবে। তবে যে চুলগুলো সাদা হয়ে গেছে, সেগুলোর কালো রং ফিরিয়ে আনার উপায় নেই।

প্রশ্ন: কৃমির ওষুধ সেবন করার নিয়ম কী?

উত্তর: কৃমির ওষুধ বেশ কিছুদিন পরপর একবার সেবন করলেই চলে। তবে কিছু ওষুধের ভিন্নমাত্রা বা ডোজ আছে। তাই যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দিনে বা রাতে, খাওয়ার আগে বা পরে কৃমির ওষুধ সেবন করা যায়। এ নিয়ে বাঁধাধরা নিয়ম নেই। কৃমির ওষুধ সেবনের পর কোনো ভিটামিন খাওয়ার প্রয়োজন নেই।

প্রশ্ন: দীর্ঘমেয়াদি কাশির চিকিৎসা কী?

উত্তর: দীর্ঘদিন ধরে কাশি এবং এর সঙ্গে কফ বা রক্ত, জ্বর, ওজন হ্রাস হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে রোগনির্ণয়ের পর চিকিৎসা নিতে শুরু করুন। কখনো কখনো অ্যালার্জিজনিত কারণে অনেক দিন কাশি লেগে থাকে। তারপরও কাশি এক মাসের বেশি স্থায়ী হলে সেটা ভালো নয়।

প্রশ্ন: শিশুদের প্রথম ভাত খাওয়ানোর সময় তা তরল মিশ্রণ (ব্লেন্ড) করে দেওয়া কি ভালো?

উত্তর: ছয় মাস বয়স থেকে শিশুদের মায়ের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য খাবার দেওয়ার কথা। এ সময় অনেকেই ভাত-ডাল-মাছ-মাংস ইত্যাদি যন্ত্রে ব্লেন্ড করে খাওয়ান। এতে শিশুদের দানাদার ও শক্ত খাবারের স্বাদ তৈরিতে সমস্যা হয়। পরবর্তী সময়ে তারা শক্ত খাবার খেতে চায় না। শিশুদের স্বাদ গ্রন্থি ও স্নায়ু তৈরিতে বিভিন্ন আকার-আকৃতির ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের খাবার দেওয়া জরুরি।

প্রশ্ন: জলবসন্ত হলে মাছ খাওয়া নিষেধ—কথাটা কি ঠিক?

উত্তর: জলবসন্ত নিয়ে নানা কুসংস্কার রয়েছে। এসবের মধ্যে একটি হলো যে মাছ খাওয়া যাবে না। আসলে এই রোগে আক্রান্ত হলে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে কোনো বিধিনিষেধ নেই। এ সময় শিশুদের একটু বেশি পুষ্টিকর ও বেশি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দিলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

প্রশ্ন: দুর্বলতার জন্য আয়রন বড়ি খাওয়া কি ভালো?

উত্তর: শারীরিক দুর্বলতার কারণ সঠিকভাবে জেনে নিতে হবে। আয়রনের স্বল্পতাজনিত রক্তশূন্যতা না হলে আয়রন বড়ি খাওয়া উচিত নয়। কারণ, অন্যান্য ওষুধের মতো আয়রন বড়িরও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। আর দুর্বলতার কারণ আয়রনের ঘাটতি নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দুর্বলতার কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

প্রশ্ন: বৈদ্যুতিক শক লাগলে তাৎক্ষণিক কী করা উচিত?

উত্তর: বৈদ্যুতিক শক লাগলে খুব দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে সরিয়ে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সরানোর জন্য কাঠ, প্লাস্টিক বা এমন কোনো বস্তু ব্যবহার করা উচিত, যা বিদ্যুৎ অপরিবাহী। উদ্ধার করার পরপরই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে শরীরে কোথাও আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও। কারণ বৈদ্যুতিক শকের প্রভাবে হৃদ্যন্ত্রের গতি-প্রকৃতির পরিবর্তন হতে পারে, এর ফলে মৃত্যুও হতে পারে। তাই অন্তত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা প্রয়োজন।

প্রশ্ন: সাধারণ সর্দি-কাশি বা গলাব্যথায় মধু, লেবু, তুলসী ইত্যাদির কোনো ভূমিকা আছে?

উত্তর: গরম পানির সঙ্গে মধু বা লেবুর রস, হালকা গরম পানির গার্গল, লেবু দিয়ে চা বা তুলসীপাতার রস ইত্যাদি ঘরোয়া চিকিৎসা সর্দি-কাশি ফ্লু বা গলাব্যথায় যথেষ্ট আরাম দিতে পারে। প্রদাহ কমা ও রোগ প্রতিরোধ বাড়ানোর উপাদান রয়েছে এতে।

প্রশ্ন: আপেল, পেয়ারা ইত্যাদি ফল কি খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া ভালো?

উত্তর: ফলের খোসায় সবচেয়ে বেশি আঁশ থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী। ওজনাধিক্য, হৃদ্রোগ ও ডায়াবেটিস কমাতে প্রতিদিন বেশ খানিকটা আঁশযুক্ত খাবার খেতে পরামর্শ দেন বিজ্ঞানীরা। তাই এ ধরনের ফলমূল যত খোসাসহ খাওয়া যায় ততই ভালো।

প্রশ্ন: খাবার শুরুতে ও মাঝে বেশি পানি পান করা কি খারাপ?

উত্তর: খাবার শুরুতেই বা মাঝখানে অনেক পানি পান করলে অনেক সময় রিফ্লাক্স বেশি হয়, অর্থাৎ পাকস্থলীর খাবার তরলসহ ওপরের দিকে উঠে আসতে চায়। খাবার পরপরই একসঙ্গে বেশি পানি পান করা উচিত নয়। খাবার সময় অল্প অল্প করেও পানি খেতে পারেন। অন্তত আধা ঘণ্টা পর বেশ খানিকটা পানি পান করতে পারেন।

প্রশ্ন: জিকা ভাইরাস কি সবার জন্য মারাত্মক?

উত্তর: জিকা ভাইরাস আর দশটা ভাইরাসের মতোই জ্বর সৃষ্টি করে এবং কোনো চিকিৎসা ছাড়াই একসময় সেরে যায়। তবে গর্ভবতী নারীরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অনাগত শিশু কিছু জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারে।

প্রশ্ন: চোখের নিচে কালি দূর করা যায় কীভাবে?

উত্তর: ভ্রু ও চোখের গড়নের কারণে চোখের পাপড়ির ছায়া পড়ে চোখের নিচের কালচে ভাব দেখা যায়। এ ছাড়া মানসিক চাপ, রাত জাগা এবং সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের কারণে চোখের নিচে কালচে ভাব হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রশ্ন: মাসিকের সময় সাইকেল চালানো, ব্যায়াম, খেলাধুলা বা দৌড়ঝাঁপ করা কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?

উত্তর: মাসিক চলাকালীন অবস্থায় সাইকেল চালানো, ব্যায়াম, খেলাধুলা বা দৌড়ঝাঁপ করা হলে কোনো সমস্যা নেই। এ সময় এ ধরনের কাজ করার ফলে শরীরের কোনো ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।

প্রশ্ন: একটি টুথব্রাশ সর্বোচ্চ কত দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়?

উত্তর: আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, একটি ব্রাশ তিন থেকে চার মাস ব্যবহার করাই নিরাপদ। আপনি ব্রাশের শলাকাগুলোর দিকে খেয়াল করুন, যখনই শলাকাগুলো নুইয়ে পড়বে বা বাঁকা হয়ে যাবে তখনই ব্রাশটিকে বদলাতে হবে। কারণ বাঁকা শলাকার টুথব্রাশ সঠিকভাবে খাদ্যকণা পরিষ্কার করতে পারে না।

প্রশ্ন: কানের লতি ছাড়া কানের অন্য কোনো অংশে ছিদ্র করানো হলে কি সমস্যা হয়?

উত্তর: কানের লতি ছাড়া কানের অন্য কোনো অংশে ছিদ্র করানোর সময় ব্যথা বেশি হতে পারে। ছিদ্র করার সময় ওই অংশের তরুণাস্থিতে আঘাতের কারণে সেখানে প্রদাহ হতে পারে। এতে কানের আকৃতি বিকৃত হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশ্ন: অ্যাজমা (হাঁপানি) রোগীরা কি পাহাড়ে উঠতে পারবেন?

উত্তর: অ্যাজমা যখন নিয়ন্ত্রণে থাকে, তখন রোগী চাইলে পাহাড়ে উঠতে পারবেন। তবে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শমতো যেসব ওষুধ সেবন করেন, সেগুলো সঙ্গে রাখতে হবে। শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ইনহেলারসহ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কাজে লাগবে।

প্রশ্ন: তৈলাক্ত ত্বকের ব্যক্তিরাও কি ক্রিম ব্যবহার করতে পারবেন?

উত্তর: যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তারা ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ব্যবহার করবেন। প্রয়োজনে সামান্য পরিমাণে পানির সঙ্গে মিশিয়ে একটু পাতলা করে নেবেন।

প্রশ্ন: প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হলে কি অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা করা উচিত?

উত্তর: প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হলেই অনেকে ওষুধের দোকানে যান ও অ্যান্টিবায়োটিক কিনে সেবন করেন। আদৌ সংক্রমণ হয়েছে কি না তা না জেনেই এটা করা ঠিক নয়। কেননা সংক্রমণ ছাড়াও নানা কারণে জ্বালাপোড়া করতে পারে। বরং যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করার কারণে অ্যান্টিবায়োটিক রেসিসট্যান্স তৈরি হয়।

প্রশ্ন: লেজার ছানি অপারেশন কি ফ্যাকো সার্জারি থেকে ভালো?

উত্তর: ফেমটো সেকেন্ড লেজারের সাহায্যে চোখের নানা অংশে সূক্ষ্মভাবে কাটা যায়। সাধারণ ফ্যাকো সার্জারির কয়েকটি ধাপ যেমন: চোখে যথাযথ কাটা, লেন্সের ওপরের ভাগ গোল করে কাটা, নিউক্লিয়াসকে ৪ থেকে ১৬ ভাগে ভাগ করা ইত্যাদি। এগুলো লেজারের সাহায্যে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। বাকি ধাপগুলো ফ্যাকো সার্জারির মতোই। লেন্স ইনপ্ল্যান্ট একই নিয়মে করা হয়।
লেজারের সাহায্যে যে ধাপগুলো করা হয়, তা অতটা নিখুঁতভাবে হাতে করা সম্ভব নয়। তাই লেজার ফ্যাকো সার্জারির গুণগত মান সাধারণ ফ্যাকো সার্জারির তুলনায় বেশি।

প্রশ্ন: রক্তশূন্যতা হলে কোন ধরনের ফলমূল খাওয়া উচিত?

উত্তর: কলা, বেদানা বা আনার, খেজুর ইত্যাদি ফলে বেশি পরিমাণে আয়রন থাকে। এ ছাড়া খাবারের আয়রন শোষণের জন্য ভিটামিন ‘সি’ প্রয়োজন, যা পাওয়া যায় কমলালেবুর মতো টক ফলে। রক্তশূন্যতা দূর করতে এ ধরনের ফল খেতে হবে।

প্রশ্ন: প্রচুর মাংস খেলে কি শক্তি বাড়ে?

উত্তর: শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য মাংস খেতে হয়—এমন ভুল ধারণা অনেকের আছে। মাংসের প্রোটিনের বদলে মাছ কিংবা ডাল, শিমের বীজ, বাদাম, স্পিরুলিনা ইত্যাদি খেলেও একই পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায়। বরং এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য মাংসের তুলনায় ভালো। কারণ, এগুলোতে মাংসের মতো ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নেই।

প্রশ্ন: শীতকালে চোখ লাল হয় কেন?

উত্তর: শীতের সময় বেরোলে ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসে চোখ শুষ্ক ও লাল হতে পারে, চোখে কখনো জ্বালাও করতে পারে। তাই এ সময় বাইরে গেলে বিশেষ করে বাইক বা সাইকেল চালানোর সময় রোদচশমা বা সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত।

প্রশ্ন: কোন টুথপেস্ট ব্যবহার করলে দাঁত ঝকঝকে সাদা করা সম্ভব?

উত্তর: টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা হয় দাঁত ও মাড়ি এবং এর ফাঁক যথাযথ পরিষ্কার করার জন্য, দাঁত ঝকঝকে সাদা করার জন্য নয়। দাঁত অতিরিক্ত সাদা করার জন্য যদি ব্লিচিং ব্যবহার করা হয়, তা আরও এনামেলের ক্ষতি করতে পারে। তাই বিজ্ঞাপনের ভাষায় না ভুলে দাঁতের জন্য ফ্লুরাইডযুক্ত সঠিক টুথপেস্ট ব্যবহার করুন।

প্রশ্ন: শিশুদের ডায়াবেটিসও কি বংশগত?

উত্তর: সাধারণত বড়দের বা টাইপ ২ ডায়াবেটিসে বংশগত কারণটি গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভকালীন ডায়াবেটিসেও এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে শিশুদের টাইপ ১ ডায়াবেটিসের পেছনে কোনো বংশগত ইতিহাস না-ও থাকতে পারে।

প্রশ্ন: চোখে ছানি পড়লে অস্ত্রোপচার করা ছাড়া কি অন্য কোনো চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়া সম্ভব?

উত্তর: চোখে ছানি পড়লে কোনো ওষুধের মাধ্যমে সেটির চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। অস্ত্রোপচার ছাড়া অন্য কোনোভাবেই এ রোগ থেকে সুস্থতা লাভের উপায় নেই।

প্রশ্ন: কানে পানি ঢুকে গেলে কী করতে হবে?

উত্তর: কানে ঢুকে যাওয়া পানি বের করার জন্য নানা রকম চেষ্টা করতে গিয়ে কানে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। যদি আগে থেকেই কানে কোনো অসুখ থাকে, তাহলে কানে পানি ঢুকলে সমস্যা হয়ে থাকে। এ ছাড়া কানে ময়লা জমে থাকলে পানি ঢুকে সেটি ফুলে যাওয়ার কারণে অস্বস্তি হতে পারে। নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রশ্ন: চোখ পিটপিট করা কি কোনো রোগ?

উত্তর: অনেকে অভ্যাসবশত চোখ পিটপিট করেন। আবার কারও চোখে শুষ্কতাজনিত অসুখ হলেও তিনি চোখ পিটপিট করতে পারেন। এ ছাড়া কেউ দীর্ঘক্ষণ ধরে কম্পিউটারে কাজ করার সময় চোখের সাময়িক শুষ্কতার জন্যও চোখ পিটপিট করেন।

প্রশ্ন: উকুননাশক ওষুধ বা শ্যাম্পু কি শিশুদের জন্য ক্ষতিকর?

উত্তর: উকুননাশক ওষুধ বা শ্যাম্পু ত্বকের মাধ্যমে পরিশোষিত হয়। তাই এগুলো শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই শিশুর চুলে উকুন হলে চুল কেটে ফেলতে হবে এবং তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

প্রশ্ন: মাস্ক ব্যবহার করলে কি রোগজীবাণু ও ধুলাবালু থেকে বাঁচা যায়?

উত্তর: নাক ও মুখ ঢেকে রাখার আবরণ বা সাধারণ মাস্ক ব্যবহার করলে বাতাসের ধূলিকণা থেকে কিছুটা নিস্তার মেলে। তবে এই মাস্ক খুব ছোট আকারের কণা ও রোগজীবাণুর প্রবেশ ঠেকাতে পারে না। তাই মাস্ক ব্যবহার করলেই শতভাগ নিরাপদ থাকা যায় না।

প্রশ্ন: সারা দিনে সর্বোচ্চ কয়টি ডিম খাওয়া যায়?

উত্তর: উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ বা কিডনির সমস্যা থেকে মুক্ত মানুষেরা প্রতিদিন একটা করে ডিম খেতে পারেন। তবে যেকোনো সুস্থ মানুষের প্রতিদিন একটার বেশি ডিম না খাওয়াই ভালো। ডিমের তৈরি কোনো খাবার খেলেও জেনে নিন তাতে ডিমের পরিমাণ কতটুকু।

প্রশ্ন: চিনির পরিবর্তে ডায়াবেটিক রোগীরা কি গুড় বা মধু খেতে পারবেন?

উত্তর: চিনি, গুড়, মধু এগুলো সবই সহজ শর্করা, যা দ্রুত ও সহজে রক্তে মেশে এবং রক্তের শর্করা বাড়িয়ে দেয়। তাই এগুলোর কোনোটিই ডায়াবেটিক রোগীর খাওয়া উচিত নয়।

প্রশ্ন: খেজুরের রস জ্বাল না দিয়ে পান করা কি বিপজ্জনক?

উত্তর: শীতকালে কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের আক্রমণে এনসেফালাইটিস রোগের প্রাদুর্ভাব হচ্ছে। কাঁচা খেজুরের রসে বাদুড়ের লালা ও প্রস্রাব মিশে যাওয়ার কারণে এই ভাইরাস ছড়ায় বলে প্রমাণ মিলেছে। ভাইরাস এই তাজা রসে বেশ কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকে। তাই খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে পান করা উচিত।

প্রশ্ন: হাঁটতে শিখতে শিশুদের ওয়াকার দেওয়া কি ভালো?

উত্তর: শিশুদের হাঁটা শেখানোর জন্য সহায়ক ওয়াকার দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এটি আসলে তাদের হাঁটতে শিখতে আরও দেরি করিয়ে দেয়। হাঁটতে গেলে যে ভারসাম্য রাখার প্রয়োজন হয়, ওয়াকারের সাহায্য নিয়ে শিখতে চাইলে তা ব্যাহত হয়। ফলে শিশুর নিজে থেকে সেই কৌশল শিখতে দেরি হয়।

প্রশ্ন: দাঁতের পোকা কি বের করা যায়?

উত্তর: দাঁতে পোকা বলতে কিছু থাকে না। জড়িবুটি ব্যবহার করে দাঁত থেকে পোকা বের করার ঘটনা একধরনের ভাঁওতাবাজি। আসলে মিষ্টি বা চিনিজাতীয় দ্রব্য মুখের জীবাণুর সঙ্গে মিশে অম্ল তৈরি করে, যা দাঁতের আবরণে (এনামেল) ক্ষয় ঘটিয়ে গর্ত তৈরি করে। এতে দাঁতে একধরনের দাগ পড়ে, যার নাম দন্তমল বা প্ল্যাক। দন্তমলকেই কেউ কেউ দাঁতের পোকা বলেন। এটি পরিষ্কার করে যথাযথ চিকিৎসা করাই একমাত্র সমাধান।

সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো।

Share This
%d bloggers like this: