মানুষ যখন মনের ভাব অন্যের কাছে প্রকাশ করকতে চায় তখন তার ভাষা শ্রুতিমধুর, সুন্দর, সুমিষ্ঠস্বর, সুস্পষ্ট উচ্চারণ প্রত্যাশা করে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সে তার মনের ভাব সঠিকভাবে প্রকাশে ব্যর্থ হয় এবং দুঃশ্চিন্তায় ভুগতে থাকে। ক্রমান্বয়ে সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর হতে থাকে। এসব জটিল সমস্যা দূর করার জন্য মানুষ দেশ থেকে বিদেশ যেত। বর্তমানে বিএসএমএমইউ (পিজি হাসপাতাল)- এ স্পীচ থেরাপী চালু করা হয়েছে। কথা বলতে সমস্যা হয় এমন রোগী এই দেশে অনেক চোখে পড়ে। শিশু যখন কথা বলতে পারে না তখন পরিবারের সবাই হতাশায় ভুগতে থাকেন। শিশুদের আধো আধো কথা থেকে সবাই আনন্দ উপভোগ করতে চায়। বিভিন্নভাবে মানুষ একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করে। ভাষা এবং যোগাযোগ এক কথা নয়। শিশু জন্মের পর থেকেই বিভিন্নভাবে তার প্রয়োজন মেটায়। যেমন ক্ষুধা লাগলে কাঁদে, মা তার কান্না থেকে বুঝতে পারে শিশুর খাবারের প্রয়োজন। কিন্তু শিশু যখন আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে তবুও কথা বলে না, তখন মা-বাবা দুঃশ্চিন্তায় ভুগতে থাকেন। শিশুর ভাষা শিখার গুরুত্বপূর্ণ সময় দেড় বছর থেকে চার বছর পর্যন্ত। যেসব শিশু সঠিক সময়ে, সঠিকভাবে কথা বলতে পারে না, শুধু তারাই নয়, শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষের কথা বলার সমস্যা যেমন- তোঁতলানো, অস্পষ্ট উচ্চারণ, কক্তস্বর পরিবর্তন, জিহ্বা আটকানো, স্ট্রোক, নাকে স্বরে কথা, অতি চঞ্চল রোগীদের চিকিৎসা দেশেই সম্ভব।

কথা বলার জন্য কানে শোনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগে শোনা পরে বলা। শিশু বাক প্রতিবন্ধীতা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে না, শুনতে পায় না বলেই কথা শিখতে পারে না। সব বয়সী লোকেরই কানে শোনার সমস্যা থাকতে পারে। যে সব শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুরা একেবারেই শুনতে পায় না তাদেরকে বিশেষ স্কুলে দেয়া যেতে পারে এবং অন্যান্য ছেলেমেয়েরা যা শেখে সেই একই বিষয় তারা যোগাযোগের বিশেষ পদ্ধতিতে শিখতে পারে। আর যেসব শিশু কিছু শুনতে পায় তাদেরকে স্পীচ থেরাপীর মাধ্যমে কথা শিখানো সম্ভব। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ কোন না কোন সমস্যায় ভুগে থাকেন। সমস্যা যখন জটিল আকার ধারণ করে তখন মানুষের মস্তিষ্কে চাপ পড়ে। মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের সমস্ত কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যেমন- কথা বলা, হাঁটা-চলা, চিন্তা-ভাবনা এসব। মস্তিস্কে প্রেসার এর কারণে স্ট্রোক করে। ফলে রোগীর বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। যেমন- সঠিকভাবে কথা বলতে না পারা, মুখ দিয়ে লালা আসা, অন্যের কথা বুঝা কিন্তু নিজে বলতে না পারা। এসব রোগীকে স্পীচ থেরাপী দিলে দ্রুত আরোগ্য লাভ করে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, জুন ২০, ২০০৯

Share This
%d bloggers like this: